এই সাইটের কোন লেখা কপি করা নিষেধ

মাতৃভাষায় ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম ‘কাজ কী’

কাজ কী বাংলাদেশের প্রথম বাংলায় ভাষা ফ্রিল্যান্সিং সাইটের। যারা ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে কাজ করতে চান অথচ ইংরেজিতে দূর্বল, তাদের জন্য এসেছে বাংলা ভাষার প্রথম ফ্রিল্যান্সিং সাইট ‘KajKey.com’।

অনলাইনে কেউ কাজ খুঁজছেন, আবার কেউবা কাজ করানোর জন্য যোগ্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান খুঁজছেন। আর সেই খোঁজাখুজিকে আরো সহজ করে দিতে উন্মুক্ত হয়েছে দেশীয় ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম । ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যারা ওয়েবসাইট ডিজাইন, ব্লগ বা টুডি, থ্রিডি অ্যানিমেটেড ভিডিও তৈরি করার জন্য পারদর্শী খুঁজছেন, অন্যদিকে এসব কাজ করে দেয়ার জন্য যারা সুযোগ খুঁজছেন তাদের জন্য দারুন একটি প্ল্যাটফর্ম। এটি তৈরি করেছেন তিন তরুণ উদ্যোক্তা সাব্বির আহমেদ, আহসান আহমেদ এবং আদিব সাজ্জাদ

‘কাজ কী’-এর দুই ধরনের ইউজার আছে। একজন যে কাজ করতে চায়। আরেকজন কাজ করিয়ে নিতে চায়। যেমন একটা কোম্পানির লিফলেট তৈরি করতে হবে। তিনি এই সাইটে ঢুকে কাজের সব তথ্য দিয়ে কাজ পোস্ট করলেন। যেখানে বাজেটও বলা থাকবে।

যেসব ফ্রিল্যান্সার এ বিষয়ে দক্ষ তাদের কাছে এর নোটিফিকেশন চলে যাবে। যারা এই বাজেটে আগ্রহী তারা জানাবে। কতজন ফ্রিল্যান্সার কাজটা করতে চায়, সে নোটিফিকেশন ক্লায়েন্টের কাছে পৌঁছে যাবে। তখন ক্লায়েন্ট ফ্রিল্যান্সারদের পোর্টফোলিও দেখবে, তাদের প্রোফাইল দেখবে। তারপর যাকে পছন্দ হবে তার সঙ্গে চ্যাটিংয়ের মাধ্যমে যোগাযোগ করবে।

এই আলাপ ইতিবাচক হলে ফ্রিল্যান্সার কাজ শুরু করতে পারবেন। তার আগেই কিন্তু বাজেটের পুরোটা ‘KajKey.com’-এর কাছে জমা রাখতে হবে। যখন কাজ শেষ হবে তখন কাজের পোস্টদাতা অর্থাৎ ক্লায়েন্টের কাছ থেকে কনফার্মেশন নিয়ে ফ্রিল্যান্সারকে টাকাটা পরিশোধ করা হয়। এক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সার পাবে ৭৫ শতাংশ। বাকিটা পায় ‘কাজ কী’। কাজ যদি ক্লায়েন্টের পছন্দ না হয়, তবে পুরো টাকা তিনি আবার ফেরত পাবেন।

প্ল্যাটফর্মটির ভাষা নিয়ে প্রজেক্ট ম্যানেজার আদিব সাজ্জাদ বলেন, ‘দেশের বাইরের ইন্টারন্যাশনাল ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে ভাষাগত প্রতিবন্ধকতার কারণে দেশের দক্ষ ক্রিয়েটিভ ফ্রিল্যান্সাররা পুরোপুরি সুযোগ করে উঠতে পারে না।। তাই প্ল্যাটফর্মটা বাংলায় রেখেছি আমরা।’

সাইটটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের প্ল্যাটফর্মে ৩০০০ এর বেশি নিবন্ধিত ফ্রিল্যান্সার আছে আর অ্যাকটিভ এমপ্লয়ার আছে ১০০০ এর উপরে। প্রতিদিনই জব পোস্ট হচ্ছে এবং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেই কানেক্টেড হচ্ছে এমপ্লয়ার এবং ফ্রিল্যান্সাররা। ঠিক এই মুহূর্তে আমরা কোনো প্রকার কমিশন রাখছি না। তবে জানুয়ারি থেকে আমরা প্রতি ট্রানজেকশনে হয়তো ২০ থেকে ৩০% কমিশন চার্জ করতে পারি, প্ল্যাটফর্মের উপযোগিতা বৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে।’

কাজ কী ’ সাইট চালু প্রসঙ্গে ‘কাজ কী’-এর বিজনেস ডেভেলপমেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট আহসান আহমেদ মল্লিক এই সময়কে বলেন,

‘বিদেশে আছে আপ-ওয়ার্ক, ফাইভার এর মতো সাইট। তেমনি আমরা করেছি ‘KajKey.com’।’’

তিনি আরো বলেন, ‘দেশের বেকার তরুণরা কাজ জানে। কিন্তু ভাষাগত সীমাবদ্ধতার কারণে তারা কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে না। তাদের জন্যই আমাদের ফ্রিল্যান্সিং সাইট। অনেক SME আছে যেখানে বাজেটের অভাবে কাজ আটকে থাকে। তারা আমাদের প্লাটফর্মের মাধ্যমে কাজ করতে পারে স্বল্প খরচে। কারণ কোনো আইটি ফার্ম বা এজেন্সি থেকে করিয়ে নিতে গেলে অনেক বেশি খরচ হবে। অথচ ওই কাজটা একজন ফ্রিল্যান্সার বাসায় বসেই করে দিতে পারে। এভাবে দুই পক্ষই উপকৃত হবে।’

এমপ্লয়ার কিংবা ফ্রিল্যান্সার খুব সহজেই সাইন আপ করতে পারবেন এখানে। রেজিস্ট্রেশনের পর দু’পক্ষের স্বার্থরক্ষার জন্য পেমেন্ট ইন্টিগ্রেশান, লিগ্যাল সাপোর্ট আর কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধির সুবিধা সংশ্লিষ্ট আছে এখানে। ভাষা, যোগাযোগ আর অনিশ্চয়তার প্রতিবন্ধকতা দূর করে তাই ‘KajKey.com’ হতে পারে নতুন এক সম্ভাবনা।

‘ কাজ কী ’ সাইটে এখন ২০ হাজারের বেশী ফ্রিল্যান্সার কাজ করছে। ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে এর কার্যক্রম শুরু হয়। তবে আনুষ্ঠানিক যাত্রা জানুয়ারি থেকে। ‘ কাজ কী ’ ফ্রিল্যান্সিং সাইটে নিবন্ধন করতে কোনো ফি দিতে হয় না। এখানে যার যে দক্ষতা আছে সেসব তথ্য ক্যাটাগরিতে ফিলাপ করে সাবমিট করে দিয়েই অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে।

একজন ক্লায়েন্ট ফ্রিল্যান্সারের ওইসব তথ্য দেখেই তাকে কাজ দেয়। ‘ কাজ কী ’ শুধু অভিজ্ঞ ফ্রিল্যান্সারদের নিয়েই ভাবছে না, তারা ফ্রিল্যান্সিংয়ে আগ্রহীদের নিয়েও ভাবছে। তাদের জন্য প্রশিক্ষণ ও সেমিনার আয়োজনের ব্যবস্থা করা হবে ভবিষ্যতে। সব মিলিয়ে একটি বড় আকারের ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফর্ম হতে চায় ‘KajKey.com’।

কিভাবে কাজ করিয়ে নিবেন?

– এমপ্লয়ার হিসাবে সাইন আপ করুন
– বিনামূল্যে আপনার কাঙ্ক্ষিত ‘কাজ’ পোস্ট করুন
– আপনার ‘কাজের পোস্ট’ দেখে দেশের সেরা ফ্রিল্যান্সাররা এপ্লাই করবে কাজটি করে দেওয়ার জন্য।
– এপ্লাই করা ফ্রিল্যান্সদের থেকে আপনি বেছে নিবেন সেরা ফ্রিল্যান্সরকে
– কাজ শেষ হলে আপনার কনফার্মেশন অনুযায়ী আমরা টাকাটা ফ্রিল্যান্সারকে পে করে দিব

তাই যেকোন কাজ খুব সহজে বাজেটের মধ্যে করিয়ে নিতে এখনই সাইন আপ করুন এমপ্লয়ার হিসাবে।

Comments (No)

Leave a Reply