এই সাইটের কোন লেখা কপি করা নিষেধ

বিশ্বের বড় ফ্রিলান্সিং মার্কেটপ্লেস ‘ফিল্যান্সার ডটকম’

ফ্রিল্যান্সার ডট কম ফ্রিল্যান্সারদের জন্য খুব বড় একটি মার্কেটপ্লেস এবং ফ্রিল্যান্সার মার্কেটপ্লেসে ফ্রিল্যান্সাররা সাধারণত বিড করার মাধ্যমে কাজ পেয়ে থাকে। এটি বিশ্বের একটি অন্যতম বড় ফ্রিলান্সিং ওয়েবসাইট । 

কাজের জন্য ক্লায়েন্টরা এখানে পোস্ট করে থাকে। সেখান থেকে ফিল্যান্সারদের কাজের জন্য বিড করতে হয়। এই মার্কেটপ্লেসে ওয়েব ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন, প্রোগ্রামিংসহ প্রায় সব ধরনের কাজের জন্য বিড করতে পারবেন। ফ্রিল্যান্সার ডট কম থেকে ওয়্যার ট্রান্সফারের মাধ্যমে খুব সহজেই অর্থ উত্তোলন করা যায়।

এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৯ সালে। এতে রয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ ব্যবহারকারী। বিশ্বের যে কোনো স্থান থেকে ফিল্যান্সার ডটকমে অ্যাকাউন্ট খুলে কাজ করা যায়। কিন্তু যেহেতু এই ওয়েবসাইটটির নিয়মকানুন অনেক কড়া তাই সবার এইটা জানা উচিত  ( যারা ফ্রিলান্সিং করতে আগ্রহী তাদের জন্য )।

রেজিস্ট্রেশান করা থেকে সকল নিয়ম কানুন নিচে দেওয়া হলো:

১) ফিল্যান্সার ডটকমে আকাউন্ট খোলার সময় আপনার সঠিক তথ্য দিন । কারন যেকোনো সময় Freelancer.com আপনার আকাউন্ট সাসপেন্ড / লিমিটেড করে দিয়ে আপনার কাছে আপনার পরিচয় প্রমান করতে বলবে । আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র / পাসপোর্ট / ড্রাইভিং লাইসেন্স / যে ঠিকানা দিয়েছেন তার যেকোনো ইউটিলিটি বিল এর স্কান করা কপি / ব্যাংক স্টেটমেন্ট দিতে হবে । আপনি যদি ভুয়া তথ্য দিয়ে আকাউন্ট খোলেন তখন ধরা খেয়ে যাবেন , মাঝখান দিয়ে আয় করা ডলার গুলো হারাতে হতে পারে ।

২) কখনই একাধিক আকাউন্ট খুলবেন না । এক কম্পিউটার এবং মডেম থেকে একের বেশি আকাউন্ট খোলা যাবে না । কখনও সাইবার কাফে অথবা অন্য কারো কম্পিউটার এ আপনার ফ্রিলান্সার আকাউন্ট থেকে লগিন করবেন না । Freelancer.com এর সিস্টেম খুবই শক্তিশালী , আপনি কবে কোন আইপি দিয়ে কোন ব্রাউসার দিয়ে লগিন করেছেন ওদের কাছে সব হিসাব থাকে । ১ বছর পড়ে হলেও ধরে ফেলবে । ( আমি নিজে ভুক্তভোগী ) , তাই আবার বলছি কখনও এক কম্পিউটার অথবা মডেম দিয়ে একাধিক আকাউন্ট খুলবেন না । আপনার কম্পিউটার দিয়ে বন্ধুর আকাউন্ট খুলে দিবেন ? তাও দেয়া যাবে না । ২ জনের আকাউন্ট ই সাসপেন্ড হয়ে যাবে । প্রক্সি দিয়াও চেষ্টা কইরেন না । আপনার ভালোর জন্যেই বলছি ।

৩) কখনও বিড করার সময় আপনার ইমেইল এড্রেস / স্কাইপে এড্রেস ক্লায়েন্টকে পাঠাবেন না । ফ্রিলান্সার ধরতে পারলে খবর আছে। তবে আপনার ক্লায়েন্ট যদি আপনাকে প্রোজেক্ট অ্যাওয়ার্ড করে দেয় , সেক্ষেত্রে ইমেইল এড্রেস / স্কাইপে আইডি পাঠাতে কোন সমস্যা নাই । তবে তার আগে কখনই না। অনেক ক্লায়েন্ট স্কাইপে আইডি চাইবে , তাদের বলবেন আগে প্রোজেক্ট অ্যাওয়ার্ড করে দিতে । কারন এইটা ফ্রিলান্সার ডট কমের নিয়মবিরুদ্ধ ।

৪) যেকোনো সমস্যায় ফ্রিলান্সার সাপোর্ট এর সহযোগিতা নিন । এইজন্য support@freelancer.com এ ইমেইল করতে পারেন । অথবা http://www.freelancer.com/users/helpdesk.php যেয়ে লাইভ চ্যাট করতে পারেন ।

৫) ক্লায়েন্টদের কখনও হুমকি ধামকি দিবেন না , অশ্লীল কোন ভাষা ব্যবহার করবেন না । ক্লায়েন্ট যত খাইছরা হোক না কেন , আপনি সবসময় ভদ্র ব্যবহার করবেন ।

৬) Freelancer.com এ মাসের শুরুতে আপনাকে ১০ তা বিড করার সুযোগ দিবে এবং প্রতি ২ দিন পর পর ১ টা করে বিড বাড়বে । তার মানে আপনি ১০ + ১৫ = ২৫ টা বিড করার সুযোগ পাবেন । বুঝে শুনে বিড করুন । সফলতা আসবে । অনেক বেশি বিড করলে অনেক বেশি কাজ পাওয়া যাবে তা কিন্তু নয় । আপনার বিডটি হতে হবে মানসম্পন্ন ।

৭) কপি পেস্ট করে বিড করবেন না । প্রোজেক্ট এর বিস্তারিত পরুন । তারপর এর সাথে সামাঞ্জস্য রেখে বিড এর মেসেজ লিখুন । ক্লায়েন্ট যদি কোন প্রশ্ন করে থাকে তাহলে তার উত্তর দিন । ধরেন প্রোজেক্ট বলছে ওয়ার্ডপ্রেস দিয়া ওয়েবসাইট বানাইতে , আপনি বিড এ ১০ টা জুমলা দিয়া বানানো ওয়েবসাইটের লিঙ্ক দিলেন । লাভ কি হবে ? ওয়ার্ডপ্রেস এর প্রোজেক্ট এ ওয়ার্ডপ্রেস এর ওয়েবসাইটের লিঙ্ক ই দিবেন । তাই বলে আবার অন্যের ওয়েবসাইটের লিঙ্ক নিজের বইলা চালাইতে যাইয়েন না । ধরা খাইলে মানসম্মান শেষ ।

৮) ফ্রিলান্সার ডট কমের বেশ কয়েকটি মেম্বারশিপ প্লান আছে । আপনার ইনকাম যদি ভালো হয় তবে মেম্বারশিপ প্লান নিলে আপনার লাভ হবে । ফ্রি মেম্বারশিপ এ অনেক সুবিধাই পাওয়া যায় না , তার উপর পুরা ১০% প্রোজেক্ট ফি কেটে নেয় । আপনার ইনকাম যদি মাসে ৫০০$ এর বেশি হয় তাহলে স্ট্যান্ডার্ড মেম্বারশিপ আপনার জন্য লাভজনক হবে কারন তখন ১০% এর বদলে ৫% করে প্রোজেক্ট ফি কাটবে । আপনার আয় যদি ১০০০ ডলার এর বেশি হয় তাহলে প্রিমিয়াম মেম্বারশিপ আপনার জন্য লাভজনক হবে কারন তখন ১০% এর বদলে ৩% করে প্রোজেক্ট ফি কাটবে ।

৯) কোন প্রোজেক্ট আপনাকে যদি ক্লায়েন্ট অ্যাওয়ার্ড করে তবে সাথে সাথেই প্রোজেক্ট একসেপ্ট করবেন না । আগে দেখুন ক্লায়েন্ট মাইলস্টোন দিয়েছে কি দেয় নাই । মাইলস্টোন পেয়মেনমেন্ট মানে হল প্রোজেক্ট ফি এর একটা অংশ যা আপনার ক্লায়েন্ট আপনার জন্য Freelancer.com এর কাছে জমা করবে । এই টাকাটা Freelancer.com আটকে রাখবে ।

আপনি এইটা তুলতে পারবেন না যতক্ষণ না আপনি কাজ কমপ্লিট করছেন এবং আপনার ক্লায়েন্ট মাইলস্টোন পেমেন্ট টা রিলিজ করে দিচ্ছে । আবার আপনার ক্লায়েন্ট ও এই টাকা ফেরত নিতে পারবে না । যদি কোন সমস্যা হয় তখন আপনি ডিসপুট দিতে পারবেন । মনে রাখবেন ফ্রিলান্সার ডট কম আপনাকে তখনই কাজের বিনিময়ে টাকার নিশ্চয়তা দিবে যখন আপনার প্রোজেক্ট এর মাইলস্টোন পেমেন্ট থাকবে ।

যদি আপনি মাইলস্টোন পেমেন্ট ছাড়াই কাজ শুরু করেন তাহলে @সাগর ভাই এর মত ধরা খাবেন । কারন মাইলস্টোন ছাড়া যদি আপনি কাজ করে ফেলেন এবং আপনার ক্লায়েন্ট আপনাকে টাকা না দিয়েই প্রোজেক্ট বাতিল করে দেয় তাহলে Freelancer.com কোন ভাবেই আপনাকে সহয়তা করবে না । কারন Freelancer.com প্রোজেক্ট জেতার সাথে সাথে আপনাকে ইমেইল করে বলে দেয় ,

We powerfully recommend that you just don’t begin work till a Milestone Payment is in situ from shopper. within the unlikely event that a difficulty happens involving your project we’ve got a fervent Dispute Resolution System in situ to safeguard you.

তার মানে ফ্রিলান্সার ডট কম তখনই আপনাকে সাহায্য করতে পারবে যখন আপনি মাইলস্টোন পেমেন্ট নিয়ে কাজ শুরু করবেন । অনেক নতুন ক্লায়েন্ট এই বিষয়টা জানে না , তাকে এই পেজ টা দেখতে বলুন http://www.freelancer.com/faq/topic.php?id=2 , তাকে বুঝিয়ে বলুন টাকাটা সে সরাসরি আপনাকে দিচ্ছে না, টাকাটা সে আপনার জন্য ফ্রিলান্সার ডট কমের কাছে জমা রাখছে । আপনি এই টাকা তখনি পাবেন যখন আপনি কাজ শেষ করতে পারবেন এবং আপনার ক্লায়েন্ট মাইলস্টোন পেমেন্ট টা রিলিজ করে দিবে ।

১০) কখনও সরাসরি কারও আকাউন্ট এ ব্যালেন্স ত্রান্সফার করবেন না । আপনার ক্লায়েন্টকেও বলবেন প্রোজেক্ট এর মাধ্যমে পেমেন্ট দিতে । আপনি যদি এমন কারো আকাউন্টে সরাসরি ব্যালেন্স ত্রান্সফার করেন যার সাথে আপনি কোন প্রোজেক্ট করেন নি , তাহলে কিন্তু আপনার এবং তার দুইজনেরই আকাউন্ট সাসপেন্ড করে দিবে এবং আপনাদের জিজ্ঞাসা করবে আপনাদের মধ্যে সম্পর্ক কি এবং কেন আপনি তাকে ব্যালেন্স ত্রান্সফার করলেন ।

freelancer.com একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান । মানি লন্ডারিং আইন অনুযায়ী এরা অনেক নিয়ম মেনে চলে । তাই সবসময় সঠিক নিয়ম অনুযায়ী কাজ করুন । দুই নাম্বারি করলেই ধরা খাবেন । আপনার চাইতে অনেক বুদ্ধিমান জন্যেই ওরা এত বড় একটা ওয়েবসাইট বানাইতে পারছে ।

Comments (No)

Leave a Reply