নিজের ব্লগ থেকে আয় করার ১০টি টিপস

ব্লগ থেকে আয় করাটা এখন বেশ সহজ হয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে অ্যাডসেন্সে বাংলা ওয়েবসাইট সাপোর্ট করার পর থেকে ব্লগ থেকে আয়ের পরিমাণ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও অনেকের ধারণা ব্লগ থেকে আয়ের একমাত্র উৎস অ্যাডসেন্স। আসলে অ্যাডসেন্স ছাড়া আরও অনেক উপায় আছে ব্লগের মাধ্যমে করার।

সঠিকভাবে শ্রম দিতে পারলে ব্লগ আপনার আয়ের প্রধান উৎস হতে পারে। যেমন ২০০৫ সালে টেক ক্রাঞ্চ প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর ব্লগের মালিক মাইকেল অ্যারিংটন ২০১০ সালে ২৫ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে বিক্রি করে দেয়। অর্থ্যাৎ মাত্র ৫ বছরে তার ব্লগের মূল্য হয়ে যায় ২৫ মিলিয়ন ডলার। এবার আশা করি ব্লগের গুরুত্ব নিয়ে আর কিছু বলতে হবে না।

বিভিন্ন উপায়ে ব্লগ থেকে আয় করা সম্ভব যার মধ্যে গুগল অ্যাডসেন্স একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। আপনাকে যদি অ্যাডসেন্স ব্যানও করে দেয়, তারপরেও গুগল অ্যাডসেন্সের বিকল্প অনেক প্লাটফর্ম রয়েছে যেগুলো থেকে আয় করতে পারবেন।

১. গুগল অ্যাডসেন্স

ব্লগ থেকে আয় করার অন্যতম উপায় হল অ্যাডসেন্স। অনেক ব্লগারের একমাত্র আয়ের উৎস হচ্ছে অ্যাডসেন্স। পৃথিবীর অসংখ্য ওয়েবসাইট গুগল অ্যাডসেন্সের মাধ্যমে সফলতার দেখা পেয়েছে। বিশেষ করে বলতে গেলে ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত উইকি হাউয়ের প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক হারিকের কথা বলতে হয়। তার এই ওয়েবসাইটে প্রতিদিন ৪০ মিলিয়ন ভিউ হয় এবং অ্যাডসেন্স থেকে মাসিক আয় হয় ২ মিলিয়ন ডলার।

২. বিজ্ঞাপন

অ্যাডসেন্স যেহেতু বিভিন্ন কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন সরাসরি নিয়ে আপনার ওয়েবসাইটে তারা পাবলিশ করে। আপনিও চাইলে অন্যান্য কোম্পানির বিজ্ঞাপন নিয়ে কোন মাধ্যম ছাড়া সরাসরি আপনার ওয়েবসাইটে পাবলিশ করতে পারবেন।

এক্ষেত্রে অবশ্য আপনার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির সাথে যোগাযোগ থাকতে হবে। তবে আপনার ওয়েবসাইটের ভিউ ও ট্রাফিক যদি বেশি হয়, সে ক্ষেত্রে বিভিন্ন কোম্পানি আপনার সাথে যোগাযোগ করবে বিজ্ঞাপন দেয়ার জন্য।

৩. স্পনসরড পোস্ট

স্পনসরড পোস্ট বলতে মূলত বোঝায় আপনি টাকার বিনিময় যখন কোন পোস্ট আপনার ব্লগে শেয়ার করবেন। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান তাদের বা প্রোডাক্টের প্রচার এবং প্রসারের জন্য পেইড ব্লগ পাবলিশ করে থাকে। আপনি যদি ব্লগার হয়ে থাকেন, তবে এসব স্পনসরড পোস্ট আপনার আয়ের অন্যতম একটি উৎস হতে পারে।

৪. অ্যাফিলিয়েট প্রডাক্ট

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে যাদের ধারণা আছে, তাদেরকে নতুন করে কিছু বলতে হবে না। আপনি বিভিন্ন কোম্পানির প্রোডাক্টের বৈশিষ্ট্য এবং উপকারিতা নিয়ে আপনার ব্লগে লেখা শেয়ার করবেন। তাদের প্রোডাক্ট ক্লিক এবং বিক্রয়ের উপর ভিত্তি করে আপনাকে নির্দিষ্ট হারে কমিশন দেয়া হবে। এটাও আপনার ওয়েবসাইটের আয়ের অন্যতম উৎস।

৫. পেইড মেম্বারশীপ

আপনার ওয়েবসাইট যখন খুব বেশি জনপ্রিয় হয়ে যাবে এবং আপনার প্রতিটি কনটেন্ট যখন অনেক বেশি মূল্যবান হবে, সে ক্ষেত্রে আপনি পেইড মেম্বারশীপ সিস্টেম চালু করতে পারেন। এর মাধ্যমে কেউ যদি আপনার ওয়েবসাইটের কোনও নির্দিষ্ট আর্টিকেল পড়তে চায়, সে ক্ষেত্রে টাকা দিয়ে মেম্বারশীপ কিনলে আর্টিকেল পড়তে পারবে।

তবে, কোন সাধারণ ব্লগে আবার পেইড মেম্বারশিপ চালু করতে যাবেন না। কেননা, এ ধরনের মেম্বারশীপ সাধারণত কোর্স, স্বাস্থ্য, টিউটোরিয়াল, পরামর্শ ভিত্তিক ওয়েবসাইটগুলোতে বেশি কার্যকরী।

৬. রিভিউ

যখন নতুন কোন মোবাইল ফোন বা নতুন কোন প্রোডাক্ট বাজারে বের হয়, তখন তার বৈশিষ্ট্য এবং গুনাগুণ নিয়ে রিভিউ দেওয়ার মাধ্যমে অর্থ আয় করা সম্ভব। যদিও ইতিমধ্যে অধিকাংশ  ব্লগারের আয়ের  উৎস এটি। ইলেকট্রনিক গ্যাজেট এবং  ই-কমার্স ওয়েবসাইট বৃদ্ধির কারণে  দিন দিন রিভিউর গুরুত্ব বৃদ্ধি  পাচ্ছে।

৭. ডিজিটাল প্রোডাক্ট বিক্রি

ইন্টারনেট এবং স্মার্টফোনের যুগে ডিজিটাল প্রোডাক্ট শব্দটা সকলের নিকট মোটামুটি পরিচিত। এদের মধ্যে উল্লেখ উল্লেখযোগ্য কিছু ডিজিটাল প্রোডাক্ট হল যথাক্রমে:

  • ই-বুক
  • টিউটোরিয়াল বা অনলাইন কোর্স
  • সফটওয়্যার ও গেমস
  • থিম, প্লাগিন ও ডিজাইন
  • মিউজিক বা ভিডিও ইত্যাদি

এসব প্রোডাক্ট অনলাইনে বিক্রি করা যায়। তবে সবগুলো প্রোডাক্ট যে আপনারই তৈরি করতে হবে, বিষয়টা এরকম নয়। আপনি চাইলে অন্যের এসব ডিজিটাল প্রোডাক্ট আপনার ব্লগেও বিক্রি করতে পারেন।

৮. সেবা বিক্রি

সেবা বিক্রি করা বলতে বুঝায়, আপনি যদি একজন ভালো ওয়েব এবং গ্রাফিক্স ডিজাইনার হন, সেক্ষেত্রে আপনি অনলাইনে ব্লগ লিখে আপনার প্রতিভা মানুষের মাঝে পাবলিসিটি করতে পারেন। ফলে ভবিষতে মানুষের প্রয়োজনে আপনাকে ডাকবে যার মধ্যমে আপনার আয়ের বিকল্প পথ তৈরি হবে। এছাড়া আরও কিছু সেবা আছে যেমন:

  • রান্নার রেসিপি তৈরি
  • আর্টিকেল রাইটিং
  • গ্রাফিক্স বা ওয়েব ডিজাইন
  • প্রোগ্রামিং
  • আইডিয়া বা পরামর্শ প্রদান
  • অনালাইনে কোর্স করানো

আপনি উপরে উল্লেখিত সার্ভিস বা সেবা সূমহ মানুষকে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে অফার করতে পারেন। এসব বিষয়েও মানুষের যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে।

৯. ব্যবসায় অংশীদারি

ব্যবসা অংশীদার মূলত কোন ব্যবসায়ীর সাথে চুক্তিবদ্ধ হওয়া। অর্থাৎ আপনি আপনার ব্লগে তাদের প্রডাক্ট বা সেবা সম্পর্কে লেখা কিংবা বিজ্ঞাপন দিয়ে তাদের প্রচার এবং প্রসার করবেন, তার বিনিময়ে তারা আপনাকে অর্থ দিবে। এ ধরনের চুক্তি যে কোনো ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাথে হতে পারে। এমনকি এটা যে কোন ব্লগের সাথেও হতে পারে।

১০. ডোনেশন

বাংলাদেশে অবশ্য ডোনেশনের পদ্ধতি খুব একটা জনপ্রিয় এবং প্রচলিত নয়। তবে বিদেশের অনেক  ওয়েবসাইট এবং ব্লগের আয়ের উৎস ডোনেশন। এটা সবচেয়ে ভাল মাধ্যম হতে পারে যারা ইসলামিক ব্লগ তৈরি করেছেন কিন্তু কোন বিজ্ঞাপন প্রচার করে না। এছাড়া অন্যান্য ব্লগারও তাদের ব্লগে ডোনেশন পদ্ধতি রাখতে পারেন। এতে করে ভিজিটর যে যার ইচ্ছে মতো আপনার ওয়েবসাইটে অর্থ প্রদান করতে পারবে।

এই ছিল আজকে ব্লগ থেকে আয় করার উপায় নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা।

Comments (No)

Leave a Reply

এই সাইটের কোন লেখা কপি করা সম্পুর্ন নিষেধ