How do I Start Blogging? What you need to know before starting a blog কিভাবে ব্লগিং শুরু করবো? ব্লগ শুরু করার আগে যা জানতে হবে

কিভাবে Blogging শুরু করবো ; প্রতিষ্ঠিত একটি ব্লগ সাইট বা ইউটিউব সোনার ডিম দেওয়া হাঁসের মতো, যা হতে পারে আপনার আজীবনের আয়ের উৎস্য। আমার জানা অনেকেই ব্লগ শুরু করার আগেই ব্যর্থ হয়ে ছেড়ে দিয়েছেন। আপনার ক্ষেত্রে এমনটা যেন না হয়, সেজন্য ব্লগ শুরু করার আগে আপনাকে আমি মোটামোটি একটা ধারণা দিতে চাই, যেন আপনি আপনার করণীয় নিজে ঠিক করতে পারেন। একটি ব্লগ সাইট সফলতার ৫০% নির্ভর করে আপনার প্রি-প্লানের উপর। আপনি যদি ব্যবসার ব্যাসিক রুলস না জেনে ইনভেস্ট করে দেন, তবে ৯৯% সম্ভাবনা আছে , আপনি লস করবেন। আলগা পেচাল বাদ দিয়ে চলুন জেনে নেই কিভাবে Blogging শুরু করতে হবে এবং ব্লগ শুরু করতে কি কি জানতে হবে।

ব্লগ কি ( what is Blogg )?

সহজ ভাষায় – নিজের মতামত, লেখা, ছবি যেকোন কিছু মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সহজ উপায়কে Blogging বলা হয়।

যে প্লাটফর্মকে ব্যবহার করে আপনার তথ্য শেয়ার করছেন, সেটিই ব্লগ, আপনি ( লেখক ) হলেন ব্লগার ।

কেন Blogging শুরু করবেন? Blogging করে লাভ কি?

আপনি Blogging বা ইউটিউবিং শুরু করতে পারবেন প্রায় শূন্য পকেটেই। দরকার শুধু একটি সমার্টফোন বা কম্পিউটার এবং ডাটা কানেকশন। যেহেতুে আমরা ব্লগ নিয়ে কথা বলতে চেয়েছি, তাই ইউটিউবকে সাইডে রেখে দেই।

ব্লগ শুরু হয়েছিল মানুষের শখ থেকে, যখন বাংলা ব্লগে কোন বিজ্ঞাপন কোম্পানী বিজ্ঞাপন দিতো না। মানুষ ব্লগ শুরু করতো তার ডায়েরী লেখার জন্য। অর্থাৎ তার নিজের বিষয়ে লিখতো, নিজের জানা বিষয়কে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়ে পাবলিসিটি বাড়াতো।

কিন্তু এখন ব্লগসাইট শখ করে খুলছে এমন মানুষ হারিকেন দিয়ে খুঁজেও পাবেন না, যদিও হারিকেন খুঁজে পেতেই আরো কয়েকটি ব্লগ তার যাত্রা শুরু করে দিবে।

ব্লগ সাইটে বর্তমানে সব ধরণের মানুষ আগ্রহী হচ্ছে। ছাত্র, বেকার থেকে শুরু করে সরকারী-বেসরকারী কর্মজীবি সকলে। কারণ প্রতিদিন কাজ শেষে ডিজিটাল ডায়েরী লিখে যদি মাসে ৫০০-১০০০ ডলার আয় হয়, তবে মন্দ কি? আপনার ফেসবুক-ইন্সট্রাগ্রামে দেওয়া সময়ের অর্ধেকটা ব্লগকে দিলেই একটা ভাল এমাউন্ট আপনার একাউন্টে যোগ হতে পারে।

এত ব্যখ্যা কেন দিলাম, ধরতে পেরেছেন? কেন Blogging শুরু করবেন আশা করি বুঝতে পারছেন। তারপরেও যদি আপনি বুঝে না থাকেন তাহলে আপনাকে বলছি, উপরে উল্লেখ করা ডলারকে টাকায় কনভার্ট করলে হয় ৪০০০০-৮০০০০ টাকা। যা আপনার একাউন্টে প্রতি মাসে আসতে পারে।

আপনি কি Blogging করতে পারবেন?

এই কথাটা না জেনেই আমরা প্রথমে এক-দুইমাস ব্লগের পিছনে কষ্ট করে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসি। আচ্ছা বলুন তো, আমি যদি হাটতে না পারি, তবে কি আমার দৌড় পাল্লায় গেলে লাভ হবে?

আমি হাটতে না পারলে দাবা খেলায় অংশ নিবো, এখানেই আমার সাফল্য রয়েছে। তাই হুজুগে বা টাকার গন্ধ পেয়ে ব্লগ করতে যাবেন না।

Blogging শুরু করতে হলে নিম্নের বিষয়গুলোর উত্তর অবশ্যই জানতে হবে:

১) আর্টিকেল লেখার অভিজ্ঞতা আপনার কতটুকু?

২) প্রতিদিন কমপক্ষে আপনাকে ১টি আর্টিকেল পাবলিশ করতে হবে, পারবেন?

৩) প্রথম ২ মাস আপনাকে প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ ঘন্টা করে সময় দিতে হবে, পারবেন?

৪) প্রথম ২ মাসে আপনার কোন ইনকাম হবে না, এটা ধরে নেন। কিছু হলে সেটা বোনাস।

৫) আপনার ভিজিটরস পেতে ঘাম ছুটে যাবে, যদি আপনিSEOঅর্থাৎ Search Engine optimisation সম্পর্কে না জানেন। ভিজিটরস না পেলে আপনার ইনকাম হবারও কোন চান্স নেই। সুতরাংSEO শিখতে হবে ।

৬) আপনি যদি একা না পারেন, তবে কি আপনি কোন বিশ্বস্ত সঙ্গী পাবেন?

এই বিষয়গুলো জানার পর আপনি যদি মনে করেন, হ্যা ভাই আমি পারবো, তাহলে আপনাকে ব্লগার হিসেবে প্রথম শুভেচ্ছাটা আমার তরফ থেকে, গ্রহণ করুন।

একটি ব্লগ সাইট করতে কত টাকা খরচ হয় ?

জানি, অনেকে শুধু এই প্রশ্নের উত্তরটা খুঁজতেছেন। ভয় নেই ব্লগ সাইট করতে টাকা লাগে না। আবার আপনি চাইলে লাখ টাকাও খরচ করতে পারেন। আপনি যদি আমাকে প্রশ্ন করেন, ভাই- আপনার সাইট করতে কত টাকা লেগেছে?

আপনাকে বলছি, pratiborton ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ডেভেলপ করে অনলাইনে নিয়ে আসতে প্রাথমিক অবস্থায় ২৫০০ টাকার মতো খরচ হয়েছিল। ডোমেইন হোস্টিং ছাড়া আমাদের তখন আসলে কোনো খরচই হয়নি।

How do I start Blogging? What you need to know before starting a blog কিভাবে ব্লগিং শুরু করবো? ব্লগ শুরু করার আগে যা জানতে হবে

সুতরাং আপনার খরচ কত হবে সেটি নির্ভর করে আপনার উপর। আমাদের আরেকটি ব্লগার সাইট whyorwhen আছে, যেটাকে অনলাইনে নিয়ে আসার জন্য মাত্র এক হাজার হয়েছিল টাকা খরচ।

নিরাপত্তা এবং আনুসঙ্গিক খরচ আসলে আস্তে আস্তে বৃদ্ধি পায়, যেটা আপনার ব্লগ থেকে ইনকাম শুরু হওয়ার পরেই করতে পারবেন।

তাই আমাদের হিসেবেও শুধুমাত্র একটি সাইট ব্যাসিক রান করানোর জন্য কত খরচ হবে সেসম্পর্কে আইডিয়া দেওয়ার চেষ্টা করবো।

১) ডেভেলপার

আপনি যদি একটি প্রফেশনাল ব্লগ খুলতে চান এবং প্রযুক্তি বিষয়ক মোটামটি জ্ঞান থাকে, তাহলে আপনি নিজে ২ মাসের মধ্যে অপটিমাইজড করতে পারবেন।

কিন্তু আপনি যদি আপনার প্রথম ভিজিটরসকেই প্রফেশনাল লুক দেখাতে চান, তবে আপনাকে একজন ভালো ওয়েব ডেভলপার হায়ার করতে হবে। আপনি যদি ব্লগারে ব্লগ খুলতে চান তবে এখানে১ থেকে ২ হাজার টাকা লাগবে।

কিন্তু যদি ওয়ার্ডপ্রেসে ব্লগ খুলতে চান, তবে আপনাকে কমপক্ষে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা দিতে হবে। ব্লগের ডিজাইন এবং ক্রাইটেরিয়ার উপর সেটি ২০-৩০ হাজারও হতে পারে।

যদি নিজে ব্লগটির দেখাশোনা করতে না পারেন সেক্ষেত্রেও আপনার ডেভেলপারকে মাসিক একটা এমাউন্ট দিতে হবে।

২) ডোমেইন : ডোমেইন কি?

আপনার সাইটটির একটি ইউনিক নাম অর্থাৎ ডোমেইন ( যেমন- pratiborton.com ) লাগবে। ডোমেইন বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে, যেমন- .com .co .bd .xyz .info ইত্যাদি।

.com বা .bd এক্সটেনশন ডোমেইন নিতে হলে ১০০০ টাকা লাগবে। .xyz ডোমেইন ১০০ টাকাতেও পেতে পারেন। আপনি কি পরিমাণ খরচ করতে চাচ্ছেন, তার উপরই নির্ভর করছে।

৩) হোস্টিং: হোস্টিং কি?

হোস্টিং একধরনের মেমোরি কার্ড। আপনি আপনার সাইটে ছবি, ভিডিও আপলোড করবেন এরজন্য যে জায়গা লাগবে, তা একটি সাইট থেকে আপনাকে নিতে হবে।

কোন কোম্পানীর কাছে আপনার ওয়েবসাইটের জন্য স্টোরেজ নেওয়াই হোস্টিং। এই হোস্টিং এর জন্য প্রতি বছর মোটামোটি ১৫০০০ টাকা দিতে হবে

তবে আপনি যদি ব্লগারে সাইট খুলেন, যেহেতু ব্লগার গুগলের একটি সেবা, তাই আপনাকে তারা ফ্রি হোস্টিং সুবিধা দিবে। তবে রেস্ট্রিকশান হলো তাদের সুবিধার বাইরে আপনি খুব বেশি কাস্টমাইজ করতে পারবেন না। যেমন – ব্লগারে আপনি কখনোই সাইন আপ ফরম বসাতে পারবেন না।

ডোমেইন এবং হোস্টিং অবশ্যই কোম্পানী দেখে কিনবেন। আপনার সেই কোম্পানীর উপর ৫০% নির্ভর করবে আপনার সাইটের স্পিড, যা বর্তমানে গুগল Rank ফ্যাক্টরও বটে। Rank যতো ভাল পাবেন, পেজ ভিজিটরস এবং Alexa Rankও বৃদ্ধি পাবে।

যদি আপনার কোন ক্রেডিট কার্ড না থাকে সেক্ষেত্রে বাংলাদেশী হোস্টিং কোম্পানী থেকেও নিতে পারবেন। আমার পরামর্শ আপনি ডায়ানা হোস্ট থেকে হোস্টিং, ডোমেইন নিন। এদের কাছে বাংলাদেশী সার্ভার রয়েছে এবং ২৪ ঘন্টা সার্ভিসের মানও প্রশংসার দাবি রাখে।

৪) টেমপ্লেট বা থিম

আপনার সাইটের একটি সুন্দর টেমপ্লেট ভিজিটরস কে পুণরায় আপনার সাইট ভিজিট করাতে আগ্রহী করতে পারে। তাই একটি ‍সুন্দর থিম বা টেমপ্লেট প্রফেশনাল ব্লগের জন্য জরুরী।

একটি ব্লগার থিম কিনতে হলে আপনাকে মোটামুটি ১০ডলার খরচ করতে হবে। তবে আপনি ফ্রি ভার্সনও পাবেন। সেক্ষেত্রে কিছু অপশন লক করা থাকে, এবং কোনোরকম সাপোর্ট, বা সার্ভিস পাওয়া যাবেনা।

যদি আপনি ওয়ার্ডপ্রেসে Blogging করেন তবে একটি থিম কিনতে ৩০ থেকে ১০০ ডলার খরচ পরবে। এখানেও ফ্রি ভার্সন দিয়ে কাজ চালানোর সুযোগ রয়েছে তবে নিরাপত্তা এবং কাস্টমাইজেশন সুযোগ কমে যাবে।

এগুলোই মোটামুটি একটি ব্লগ শুরু করার খরচ। আপনার টপিক এবং কাস্টমাইজেশন, ডিজাইনের উপর কিছু কমবেশি হবে।

কোন নিশ নিয়ে ব্লগ শুরু করবো?

এই টপিক টা আমাদের কিভাবে ব্লগ খুলবো তারপর করার কথা ছিল, কিন্তু একটি দোকান ঘর ভাড়া করার পূর্বে যদি আপনি না জানেন, যে আমি কি নিয়ে ব্যবসা করবো, তাহলে দোকান ভাড়া করার পর হয়তো দেখবেন ওই জায়গায় আপনার পণ্য বিক্রি হবে না, অথবা দোকান ঘর আপনার ছোট বা বড় হয়ে গেছে। সুতরাং, প্লান ফার্স্ট।

Blogging শুরু করার আগে আপনাকে অবশ্যই ঠিক করে নিতে হবে, আপনার ব্লগ সাইটের টপিক বা নিশ কী হবে, কোন ধরণের ভিজিটরস কে আপনি ট্রাফিক হিসেবে চাচ্ছেন।

পূর্বে আলোচনায় আমরা কিছু জনপ্রিয় Blogging নিশ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছিলাম। একটি ব্লগ সাইটের টপিক কে নিশ বলা হয়। এখন আপনার সাইটের নিশ কি হবে, তা সিলেক্ট করার জন্য তিনটি বিষয় মাথায় রাখুন;

  1. আপনার ইন্টারেস্ট
  2. দক্ষতা এবং
  3. বিষয়বস্তুর চাহিদা

বাংলা ব্লগের কিছু জনপ্রিয় টপিক বা নিশ

  • টেকনোলজি
  • টিপস এন্ড ট্রিক্স
  • রিভিউ
  • নিউজ
  • স্বাস্থ্য
  • কৃষি
  • গল্প
  • কবিতা ইত্যাদি।

আবার, আপনি যদি ব্লগকে বিজনেসের জন্য ব্যবহার করতে চান, তবে সেক্ষেত্রে একটু ভিন্ন হবে। এরকম কিছু টপিক- ই-বুক, ড্রেস, ইলেক্ট্রনিক শপ ইত্যাদি।

আরো এক ধরণের ব্লগ বাংলায় নতুন আসছে, প্রফেশন কে কাজে লাগিয়ে কিছু ব্লগার তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন। যেমন, একজন উকিল, স্বভাবতই আইন সম্পর্কে তিনি ভাল জানেন। তার এই জ্ঞান সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য একটি ব্লগ চালু করতে পারেন। এটা কিন্তু একটা ইউনিক নিশ, এবং যেহেতু এমন ব্লগ বাংলায় নেই, তাই খুব দ্রুত সাকসেস পাবেন আশা করা যায়। জনপ্রিয় এবং লাভজনক ব্লগ নিশ সম্পর্কে জেনে নিয়ে তারপর সিদ্ধান্ত নিন।

মোটকথা হলো, হাটতে না পারা আমার সেই দৌড় দেওয়ার মতো কিছু চেষ্টা করবেন না। আপনি একটি ব্লগ শুরু করে ৩০-৪০ টা আর্টিকেল লেখার পর যদি আর টপিক খুঁজে না পান, তবে প্রথমেই যে সতর্কতা দিয়েছিলাম, আপনিও সেই ভাগ্য বরণ করে ব্লগ ছেড়ে দিতে বাধ্য হবেন, অথবা আপনার আর্টিকেল কিনতে হবে।

এখন আপনি যদি আইন সম্পর্কে না জেনে, শুধুমাত্র ইউনিক কিছু করার জন্য আইন নিয়ে ব্লগ শুরু করেন, তাহলে আপনার সাকসেস না পাওয়ার সম্ভাবণা ১২০%। সুতরাং, আপনার নিজের অভিজ্ঞতা, জ্ঞানের উপর ভরসা করে যে বিষয়ে ভাল জানেন, সেটা দিয়ে শুরু করুন।

কোন ভাষায় Blogging করবো? বাংলা নাকি ইংরেজি!

আপনাকে প্রথমে যে ৫০০ ডলারের কথা বলেছিলাম, সেটা ১০০০০ ডলার বা তারও হতে পারে, যদি ব্লগটা ইংরেজিতে হয়। ব্লগ থেকে আয় করার সবচেয়ে বড় উপায় আপনার সাইটে গুগল এডসেন্স বা তার বিকল্প এড নেটওয়ার্ক এর বিজ্ঞাপন দেখানো।

বাংলায় আপনার সাইটের একটি বিজ্ঞাপনে ক্লিক করলে সর্বনিম্ন ০.০১ ডলার পাবেন, এবং সর্বোচ্চ ০.২০ ডলার ( রেয়ার কেস )। কিন্তু ইংরেজিতে ২ ডলার থেকে ৫০ ডলার পর্যন্ত পাওয়া যায়, বিশেষ করে যদি আমেরিকা, কানাডা এসব দেশের ট্রাফিক পান, তাহলে প্রচুর আয় হবে।

এজন্য আপনাকে ভাল ‍ইংরেজি জানার পাশাপাশিSEOঅর্থাৎSearch Engine optimisationএ এক্সপার্ট হতে হবে।যদি এই ২টা বিষয়ে নিজের প্রতি কনফিডেন্স থাকে তবে আপনার অবশ্যই ইংরেজীতে ব্লগ খোলা উচিৎ, কারণ ইনকামের জন্যই তো ব্লগ খোলা।

ব্লগ থেকে আয় করার উপায় কোনগুলো?

১) বিজ্ঞাপন:

আপনার সাইট একটি বিজ্ঞাপন কোম্পানীর সাথে মনিটাইজ করে আয় করতে পারবেন । প্রফেশনালি যদি স্টার্ট দেন, আপনি ১৫ দিন বয়সেই এডসেন্স পেয়ে যাবেন। আইটিসময়.কো মাত্র ২৩ দিন বয়সে গুগল থেকে প্রথম বিজ্ঞাপন দেখায় । ব্লগারদের ব্লগ থেকে ইনকামের মেইন উৎস্য এই বিজ্ঞাপন।

২) লোকাল এড:

আপনি যদি কোন কোন শপিংমলের সাথে বা কোন নতুন কোম্পানীর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন, এবং বুঝাতে পারেন আপনি তাদের জন্য কাস্টমার পাঠাতে পারবেন, তাহলে আপনাকে এজন্য পেমেন্ট করবে ।

৩) নিজের প্রোডাক্ট বিক্রি করে:

আপনি কিছু ই-বুক বানিয়ে আপনার ভিজিটরসদের কাছে ৫০০-১০০০ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন ।

৪) অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে:

আপনি আপনার ব্লগ সাইটে এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারবেন। অর্থাৎ অন্য কারো প্রোডাক্ট নিজের সাইটে প্রোমোট করতে পারবেন এবং যখন কেউ আপনার ব্লগ সাইটে ও প্রদর্শিত লিংক থেকে ওই প্রোডাক্ট ক্রয় করবে তার পরিবর্তে আপনি একটি কমিশন পাবেন যাকে এফিলিয়েট কমিশন বলা হয়।

সহজ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সবচেয়ে লাভজনক বাংলাদেশী এফিলিয়েট প্রোগ্রাম। এছাড়া আলীবাবা, eBay, অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম তো রয়েছেই ।

৫) সিপিএ মার্কেটিং:

অ্যাফিলিয়েটিং এর মতোই কাজ, তবে আপনাকে এজন্য প্রোডাক্ট বিক্রি করতে হবে না । আপনার ভিজিটরস কে শুধু লিঙ্ক বা বিজ্ঞাপনে ক্লিক করতে হবে । CPAGrip, CPALead সাইটে সিপিএ মার্কেটিং করতে পারবেন ।

৫) এছাড়াও আপনি অনলাইন কোর্স এবং ডিজিটাল প্রোডাক্ট ইত্যাদি বিক্রয়ের মাধমেও আপনার ব্লগ সাইট থেকে ইনকাম করতে পারবেন।

ব্লগার নাকি ওয়ার্ডপ্রেস, কোথায় ব্লগ ‍খুলবেন ?

এখন পর্যন্ত আলোচনা থেকে আপনি গুগলের ব্লগার এবং ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগ সম্পর্কে কিছু ধারণা পেয়েছেন । দুটোই অসাধরণ এবং জনপ্রিয় প্লাটফর্ম ব্লগ সাইটি করার জন্য। তবে যেহেতু দুটো আলাদা কোম্পানী, তাই কিছু ভিন্নতা থাকবেই। মূল পার্থক্যগুলো আপনাকে বলার চেষ্টা করছি:

১) ব্লগার আপনাকে ফ্রি তে ব্লগ খুলতে দিবে।

  • ওয়ার্ডপ্রেসে ব্লগ রাখার জন্য প্রতিমাসে নূন্যতম ৪ডলার দিতে হবে।

২) ব্লগারে ব্লগ চালানোর জন্য কোন কোডিং জ্ঞান না থাকলেও চলবে।

  • ওয়ার্ডপ্রেসকে সঠিকভাবে ইউটিলাইজ করতে চাইলে আপনার কোডিং নলেজ থাকতে হবে।

৩) ব্লগারে আপনি কোন এক্সট্রা প্লাগইন ইন্সটল করতে পারবেন না।

  • ওয়ার্ডপ্রেসে যেকোন প্লাগ-ইন ইনস্টল করতে পারবেন।

৪) ব্লগারে ইউজার একাউন্ট ফরম দিতে পারবে না।

  • প্রফেশনাল সাইটের প্রায় সবকিছু করতে পারবেন।

৫) ব্লগার আপনি কয়েকটি ক্লিক করেই তৈরি করতে পারবেন।

  • ওয়ার্ডপ্রেসে ব্লগ তৈরি করা অনেক বেশি জটিল।

সবকিছু মিলিয়ে আমার পরামর্শ হবে, আপনি যদি Blogging নতুন হন কিংবা ব্যক্তিগতভাবে Blogging কারতে চান, তাহলে প্রাথমিকভাবে গুগল ব্লগার বেছে নিন। কিন্তু, আপনি যদি ব্যবসায়িক বা প্রতিষ্ঠানের জন্য অথবা প্রফেশানালী Blogging করতে চান, তাহলে অবশ্যই কিছু টাকা খরছ করে ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করে Blogging করুন।

ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে Blogging শেখার জন্য ফ্রি ডোমেইন হোস্টিং নিয়ে প্রাকটিস করতে পারেন। কখনো প্রয়োজন হলে বা যদি চান ব্লগার থেকে যেকোন সময় আপনার সাইটকে কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই ওয়ার্ডপ্রেসে ট্রান্সফার করতে পারবেন।

গুগল ব্লগারে ব্লগ কিভাবে খুলবেন?

পূর্বে বলেছিলাম, কয়েকটি ক্লিক করে ব্লগারে ব্লগ সাইট ওপেন করা যায়। ব্লগ সাইট খোলার জন্য ব্লগার ডট কম ভিজিট করুন। আপনার যে জি-মেইল একাউন্টে ব্লগ করতে চান, সেটি নিলেক্ট করুন, লগইন না থাকলে লগইন করুন ।

How do I Start Blogging? What you need to know before starting a blog কিভাবে ব্লগিং শুরু করবো? ব্লগ শুরু করার আগে যা জানতে হবে 1

মেন্যুবার এ ক্লিক করলে Create Blog অপশন আসবে। সিলেক্ট করলে CREATE NAME FOR BLOG আসবে । এখানে আপনার ব্লগের টাইটেল দিন ( যেমন- Why Or When – কী, কেন, কীভাবে )। এরপর ইউআরএল দিতে হবে। blogspot.com এটা বাই ডিফল্ট থাকবি, ডিলেট করতে পারবেন না।

ব্লগের নামের সাথে মিল রেখে ইউআরএল দিন ( যেমন- whyorwhen.com )। এমন নাম দিতে হবে, যে নামে কোন সাইট নেই। ব্লগ ইউআরএল সিলেক্ট করার আগে গুগল করে দেখবেন, আশে পাশে এমন নামের কোন সাইট আছে কি না, না হলে আপনার ভিজিটর আপনাকে সার্চ করে সেই সাইটে চলে যাবে। ব্লগার হিসেবে আপনাকে আর একবার শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

শেষ কথা

বাংলাদেশে বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধিহার ১.৩৩%, অথচ, বেকারত্বের হার ৪.৪% এরও বেশি (সূত্র-প্রথম আলো)। কিন্তু ঘরে বসে Blogging করে আপনি চাইলে নিজে কাজ করার পাশাপাশি আরো কিছু মানুষকে কাজ দিতে পারেন।

আপনি যদি একটা অনলাইন নিউজপেপার ব্লগ খুলেন, সেখানে খুব সহজেই আরো ৫ জনকে আপনি সাংবাদিক বা অনলাইন পোর্টাল রাইটার হিসেবে নিয়োগ দিতে পারেন।

তাই এখনই সিদ্ধান্ত নিন, বসে বসে বেকারত্ব বরণ করবেন? নাকি Blogging শুরু করে নিজের ভবিষ্যৎ নিজে গড়বেন। তাছাড়া আপনাকে আমি এটা বলছি না যে, শুধু বেকার বা ছাত্ররাই ব্লগ খুলে আয় করবেন, আপনি অন্য কাজ খুঁজুন বা অন্য কাজে যদি কর্মরত থেকে থাকেনও, তাহলেও একটি প্যাসিভ ইনকাম সোর্স হিসেবে Blogging শুরু করুন।

কিভাবে Blogging শুরু করতে হবে তা জানলেন এবং আপনি ব্লগার হয়ে গেলেন, কিছুদিন পর আবার আমাকে বলবেন, কি করলাম ভাই! এই সমস্যা, সেই সমস্যা।

আপনি যেন আমাকে এসব অভিযোগ দিতে না পারেন, সেজন্য আপনাকে অনুরোধ করবো আমাদের Pratiborton ব্লগার ফোরামে ( ফেসবুক গ্রুপ ) যুক্ত হওয়ার জন্য। যারা অভিজ্ঞ আছেন তারাও আশা করি যুক্ত হয়ে আমাদের সহযোগীতা করবেন।

Comments (No)

Leave a Reply

এই সাইটের কোন লেখা কপি করা সম্পুর্ন নিষেধ