এই সাইটের কোন লেখা কপি করা নিষেধ

মেয়েদের জন্যে অনলাইনে আয় করার ৩টি সহজ উপায়

বিগত কয়েক বছরে মেয়েদের জন্যে অনলাইনে আয় করার অনেক স্কোপ তৈরি হয়েছে। কারণ, অনলাইনে যে কোনও ধরণের কাজ শুরু করার জন্যে একটা কম্পিউটার আর একটা ইন্টারনেট লাইন ছাড়া আর তেমন কিছুর প্রয়োজন হয় না। যদিও কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়, তবু সেটা খুব বেশি নয়। যে কোনও মেয়েই আজকাল অল্প বিস্তর বিনিয়োগের ক্ষমতা রাখে।

তবে, আমরা এখানে এমন কিছু উপায় নিয়ে কথা বলবো যেগুলোতে বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে না। কিংবা খুবই সামান্য বিনিয়োগ লাগবে যা যে কেউই অ্যাফোর্ড করতে পারবে। আসলে অনলাইনে আয়ের জন্যে খুব বেশি কিছুর প্রয়োজন হয় না। একটা ইন্টারনেট লাইন থাকলেই আজকাল ঘরে বসে যে কোন মেয়েই অনলাইনে টাকা উপার্জণ করতে পারে।

এমন অনেক ফ্যামিলি রয়েছে যেখানে টাকা পয়সা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এসব ফ্যামিলিতে যেসব মেয়েরা নিরেট একজন গৃহিনী হিসেবে জীবন যাপন করছে, তাদেরকে প্রায়ই ক্রিটিচাইজড্ হতে হয়। এমনকি, নানা রকম বৈষম্যের স্বীকার হতে হয়।

কিন্তু প্রযুক্তির অগ্রসরতা আর ব্যবসার জন্যে প্রযুক্তি নির্ভরতা মেয়েদের জন্যে অনেক রকমের আয়ের দরজাই উন্মুক্ত করেছে। মেয়েরা যদি ঘরে বসে আয় করা শুরু করে, তবে নিজেরা যেমন স্বাবলম্বী হতে পারবে, তেমনি সমাজে সন্মানের সঙ্গে বসবাস করতে পারবে। তবে জানতে হবে সহজে আয়ের উপায়গুলো।

মেয়েদের জন্যে অনলাইনে আয় করার সহজ উপায়

মেয়েদের জন্যে কিছু ব্যতিক্রমী বিজনেস আইডিয়া আছে। কিন্তু সেগুলোতে কিছু না কিছু বিনিয়োগের প্রয়োজন আছে। অনেক ক্ষেত্রে বিনিয়োগের পরিমাণটা নেহাৎই কম নয়। আমরা আজ এমন কিছু কাজ নিয়ে কথা বলবো যেগুলো বিজনেস নয় অথচ বিজনেসের মতোই লাভজনক। আর সেগুলো অনায়াসে ঘরে বসেই করা যায়, এমনকি পড়াশুনা কিংবা সংসার করা অবস্থায়ও।

১. আর্টিকেল লিখে আয়

মেয়েদের জন্যে ঘরে বসে আয় করার সবচেয়ে সহজ ও আকর্ষণীয় উপায় হচ্ছে আর্টিকেল লেখা। আর্টিকেল লেখা মানে কি? আর্টিকেল শব্দটির বাংলা অর্থ প্রবন্ধ, নিবন্ধ, অনুচ্ছেদ ইত্যাদি। যে কোনও প্রিন্টেড পত্রিকায় কিংবা অনলাইন পোর্টালে প্রবন্ধ, নিবন্ধ কিংবা অনুচ্ছেদ লেখার নামই হচ্ছে আর্টিকেল লেখা।

প্রিন্টেড পেপার বা ম্যাগাজিনের কথা বাদই দিলাম। শুধু অনলাইনেই এই মূহুর্তে ৬৫৪ মিলিয়ন বা ৬৫ কোটি ৪০ লক্ষ ওয়েবসাইট রয়েছে। এই ওয়েবসাইটগুলোর একটা বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে অনলাইন নিউজপেপার, অনলাইন ম্যাগাজিন কিংবা ব্লগ। বুঝতেই পারছেন এই বিশাল সংখ্যক ওয়েবসাইটের জন্যে প্রতিদিন কী পরিমাণ আর্টিকেল দরকার!

আপনার জন্যে স্কোপটা এখানেই। প্রচুর ওয়েবসাইট আছে যারা আর্টিকেল রাইটার খুঁজছে এবং অত্যন্ত লোভনীয় অনারিয়াম অফার করছে। এসব ওয়েবসাইটের জন্যে আর্টিকেল লিখে প্রতি মাসে কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন। তবে, এর জন্যে আপনাকে খুব ভাল ইংরেজী জানতে হবে। যে কোন বিষয় নিয়ে ভালভাবে রিসার্চ করার মতো যোগ্যতা থাকতে। এরপর সে বিষয়ে সুন্দরভাবে গুছিয়ে লেখার দক্ষতা থাকতে হবে।

যারা ইংরজেীতে ততটা ভাল নন, কথাগুলো পড়ে তারা হয়তো হতাশ হয়ে পড়েছেন। না, হতাশ হবেন না, ইংরেজীতে দক্ষ না হলেও আপনি আর্টিকেল লিখতে পারবেন এবং আয়ও করতে পারবেন। কারণ, বাংলায়ও লিখে আয় করার প্রচুর সুযোগ রয়েছে। যেমন, আপনি আমার যে লেখাটি পড়ছেন, এটির জন্যে আমি বিল পাবো। অর্থাৎ, হৈচৈ বাংলা এ লেখাটির জন্যে আমাকে বিল দিচ্ছে। চাইলে আপনিও এ ওয়েবসাইটের জন্যে বাংলায় আর্টিকেল লিখতে পারেন এবং বিকাশে পেমেন্ট নিতে পারেন।

এমনিতেই আমাদের দেশে প্রচুর অনলাইন পোর্টাল রয়েছে। তারওপর বাংলায় গুগল অ্যাডসেন্স অ্যালাউ হওয়ার পর থেকে আরো অনেক নতুন নতুন অনলাইন নিউজপেপার, ম্যাগাজিন ও ব্লগ সাইট তৈরি হয়েছে। যারফলে, বাংলায়ও ফ্রিল্যান্সিং রাইটিং এর একটা বিশাল ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।

তবে সব পোর্টালই যে টিকে থাকছে কিংবা সবাই যে লেখকদের নিয়মিত পেমেন্ট দিচ্ছে এর অবশ্য গ্যারান্টি নেই। এক্ষেত্রে আপনাকে ভাল করে যাছাই বাছাই করে নিতে হবে কারা ঠিক মতো পেমেন্ট দিচ্ছে আর আপনি কাদের জন্যে লিখবেন। আপনি যদি বাংলা লেখায় দক্ষ হন, তবে আমি সাজেস্ট করবো, হৈচৈ বাংলায় লেখার জন্যে। আমি এখানে লিখছি এবং নিয়মিত পেমেন্ট পাচ্ছি। কাজেই, এ সাইটের ব্যাপারে আমি গ্যারান্টি দিতে পারি।

২. বিউটি ব্লগিং থেকে আয়

মেয়েরা স্বভাবতই সৌন্দর্য্য সচেতন আর নিজেদেরকে আরো সুন্দর করে তোলার জন্যে প্রতিনিয়তই তারা নতুন নতুন কৌশল খুঁজছে। আপনার কাজ হচ্ছে নিজের একটি ব্লগিং ওয়েবসাইট তৈরি করা আর সেই সাইটে মেয়েদের জন্যে নতুন নতুন বিউটি টিপস্ দেয়া। সৌন্দর্য্য বিষয়ক যে কোনও বিষয় নিয়েই আপনি ব্লগিং করতে পারেন।

কিভাবে শুরু করবেন?

প্রথমে বিউটি রিলেটেড একটি টপিক ঠিক করুন। কারণ, এই রিলেটেড হাজারো টপিক আছে। আপনি যদি পুরোটা নিয়ে ব্লগিং করতে চান, তবে আপনার ব্লগটিকে হয়তো কখনোই র‌্যাংক করাতে পারবেন না।

ধরুন, আপনি ঠিক করলেন আপনি সব ধরনের বিউটি টিপস্ ও বিউটি প্রোডাক্টস্ নিয়ে লিখবেন। এখন একবার কেবল ভাবুন যে এ রিলেটেড কত লক্ষ লেখা রয়েছে অনলাইনে! আপনি সবগুলো কাভার করতে পারবেন? পারলেও কি আপনি অন্যদের টপকিয়ে নিজের লেখাগুলোকে সার্চের শুরুতে নিয়ে আসতে পারবেন?

কখনোই না। সুতরাং, বিউটি টপিকটিকে ভাগ করে ফেলুন। যেমন, হতে পারে-

  • ১. হেয়ার কেয়ার
  • ২. স্কিন কেয়ার
  • ৩. বডি ফিটনেস
  • ৪. ন্যাচারাল বিউটি টিপস্
  • ৫. বডি প্রোডাক্ট রিভিউ, ইত্যাদি।

এ রকম যে কোনও একটি টপিক বেছে নিন।

এবার একটি ওয়েবসাইট সাইট তৈরি করুন যা মূলত আপনার ব্লগ সাইট হবে। অর্থাৎ, যেখানে আপনি নিয়মিত আপনার ঠিক করা টপিকের উপর লিখবেন। কাজেই, ওয়েবসাইটের জন্যে একটি ডোমেইন ও একটি হোস্টিং প্যাকেজ কিনে নিন।

ডোমেইন কিনবেন আপনার ঠিক করা টপিকের সঙ্গে ম্যাচ করে। যতটা ম্যাচ করাতে পারবেন, ততটাই ভাল ফল পাবেন। যেমন, আপনার টপিক যদি হয় হেয়ার কেয়ার, তবে আপনার ডোমেইন হওয়া উচিৎ haircare.com কিন্তু এই ডোমেইন আপনি পাবেন না। তাই, যেটা করবেন সেটা হচ্ছে haircare ঠিক রেখে অন্যান্য শব্দ যোগ করুন। যেমন, haircaretips.com অথবা haircarenatural.com অথবা haircareadvice.com ইত্যাদি। যাইহোক, ডোমেইন কেনার আগে কিছু বিষয় চেক করে নিন।

একইভাবে, একটি ছোট হোস্টিং প্যাকেজ কিনে নিন। কারণ, ব্লগ সাইটের জন্যে বড় প্যাকেজের প্রয়োজন হয় না। যাইহোক, ডোমেইন ও হোস্টিং কেনা হয়ে গেলে কাউকে দিয়ে ওয়েবসাইট ডেভেলপ করে নিন। এবার, আপনার টপিকের উপর আর্টিকেল লিখতে থাকুন।

৩. ইউটিউব চ্যানেল থেকে আয়

মেয়েদের জন্যে অনলাইনে আয় করার আরেকটি সহজ উপায় হচ্ছে ইউটিউব চ্যানেল। হ্যাঁ, আপনি একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলে তাতে ভিডিও আপলোড করে গুগল থেকে আয় করতে পারেন। কি নিয়ে চ্যানেল খুলবেন?

রান্না বিষয়ক চ্যানেল হতে পারে, রূপচর্চা বিষয়ক চ্যানেল হতে পারে, হতে পারে ঘর সাজানো বিষয়ক একটি দারুণ ইউটিউব চ্যানেল। মানুষ খেতে ভালবাসে। তাই তাদের নিত্য-নতুন রেসিপি প্রয়োজন, প্রয়োজন লাইভ রান্নার কৌশল। আপনি নিজে রান্না করা অবস্থার বিবরণ দিয়ে ভিডিও করে আপনার চ্যানেলে দিতে পারেন।

সৌন্দর্য্য চর্চা বা বিউটি বিষয়ে কি বলবো! বিউটি টিপস্ ভিডিও তৈরি করে ইউইয়া প্রতি বছর ইউটিউব থেকে আয় করেন ৬ লক্ষ ডলার। সব নারীরাই সৌন্দর্য্য চর্চা বিষয়টির উপর আসক্ত। আর এ বিষয়ে এখন সব মেয়েরাই ইউটিউবে ভিডিও সার্চ করে থাকে। এদের জন্যেই আপনি ন্যাচারাল বিউটি কিংবা এ টাইপের কোন একটি চ্যানেল খুলে ভিডিও আপলোড শুরু করতে পারেন। ঘর সাজানোর প্রতিও মেয়েদের ফেসিনেশন রয়েছে। এ বিষয়ে চ্যানেল খুললেও সফল হওয়ার সম্ভাবণা অনেক। মোট কথা, আপনি যে বিষয়ে ভাল বুঝেন বা যে বিষয়ে এক্সপার্ট সে বিষয়েই একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলুন এবং অনলাইনে আয় করুন।

মেয়েদের জন্যে অনলাইনে আয় করার আরো অনেক উপায় আছে। আমি মাত্র ৩টি উপায় নিয়ে আলোচনা করেছি। চাইলে আপনি এ ৩টি থেকে যে কোনটি নিয়ে কাজ শুরু করতে পারেন। অথবা, এর বাইরে এমন কিছুর কথা ভাবতে পারেন, যা সম্পর্কে আপনার অভিজ্ঞতা রয়েছে কিংবা মোটামুটি ধারণা রয়েছে। ইচ্ছে করলে আপনি একা না করে আপনার কোন ক্লোজ বান্ধবীকে নিয়েও যে কোন একটি শুরু করতে পারেন। এতে বরং আপনার সফলতার সম্ভাবণা বেড়ে যাবে। সুতরাং, বান্ধবীদের সঙ্গে লেখাটি শেয়ার করে আলোচনা শুরু করে দিন।

Comments (No)

Leave a Reply