এসোআয়করি ডট কম বাংলাদেশের প্রথম এবং সবচেয়ে বড় অনলাইন আয়মূলক ব্লগ। ৩০০০০+ মেম্বার প্রায় ৬৫০০ পোস্ট লিখেছেন online earings বিষয়ে। Freelancing বা Online income কে সহজ করার জন্য আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি। আপনও আমাদের সাথে যুক্ত হয়ে আপনার Outsourcing অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারেন নতুন freelancer দের সাথে।

কিভাবে Payoneer পেওনিয়ার একাউন্ট খুলবেন?

ইনফরমেশন টেকনোলজির এই যুগে একাউন্ট কিভাবে খুলবেন এটা তেমন বড় বিষয় নয়। আমরা সবাই জানি এটা কিভাবে খুলতে হয়। তারপরেও আমি দেখেছি পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে অনেকেই ভুল করছেন, যার কারনে একাউন্ট এপ্রুভ হচ্ছে না, অথবা দেরি হচ্ছে। তাই মনে হল এই বিষয়ের উপর একটি পোস্ট লিখে ফেলা যায়।

সবার প্রথমেই আমাদের মনে রাখা উচিৎ এটি একটি ফাইনানশিয়াল প্রতিষ্ঠান, ফেসবুক অথবা অন্য কোন সোশ্যাল সাইটের মত না, যে যেমন খুশি তেমন ভাবে একটি একাউন্ট খুলে ফেললাম। এখানে আপনাকে আপনার সব ভ্যালিড ডকুমেন্ট এবং তথ্য দিয়ে একাউন্ট খুলতে হবে।

পেওনিয়ার একাউন্ট কিভাবে খুলবেন তা নিয়ে আলোচনা করার আগে পেওনিয়ার কি এবং এই সলিউশন কাদের জন্য তার একটু ধারনা দেই।

পেওনিয়ার কী?

পেওনিয়ার হচ্ছে একটি ক্রস বর্ডার পেমেন্ট সলিউশন, যা ব্যাবহার করে আপনি দেশের বাইরে থেকে আপনার কাজের পেমেন্ট আনতে পারবেন। সেটা হতে পারে কোন মার্কেটপ্লেস থেকে অথবা সরাসরি ক্লায়েন্টের কাছ থেকে। আপনার ক্লায়েন্ট কোন প্রতিষ্ঠান হতে পারে আবার কোন ব্যাক্তিও হতে পারে।

এখানে মনে রাখতে হবে, পেওনিয়ার ব্যাবহার করে শুধু মাত্র কাজের পেমেন্ট আনা যায়, অন্য কোন ধরনের পেমেন্ট আনা যায় না।

গ্লোবাল ক্লায়েন্ট মূলত ৪ ভাবে আপনাকে পেমেন্ট করতে পারবে।

  • মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে (যেমন আপওয়ার্ক, ফাইবার ইত্যাদি)
  • তার ব্যাংক একাউন্ট থেকে (গ্লোবাল পেমেন্ট সলিউশন এবং ই-চেক)
  • তার ইন্টারনেশনাল ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড থেকে (মাস্টার,ভিসা এবং এমেক্স)
  • তার পেওনিয়ার একাউন্ট থেকে

মনে রাখতে হবে, যাদের বাইরে কোন ক্লায়েন্ট নেই, তাদের জন্য পেওনিয়ারের কোন সলিউশন নেই। অর্থাৎ এই সলিউশন শুধু মাত্র তাদের জন্য যাদের দেশের বাইরে ক্লায়েন্ট আছে এবং তারা সেই ক্লায়েন্টের টাকা, পেওনিয়ার ব্যাবহার করে বৈধ উপায়ে দেশে নিয়ে আসতে চাচ্ছেন।

পেওনিয়ারে দুই ধরনের একাউন্ট খোলা যায়,

  • ব্যাক্তিগত
  • প্রাতিষ্ঠানিক

এই পোস্টে আমি দেখাবো, ব্যাক্তিগত (ইন্ডিভিজুয়াল) পেওনিয়ার একাউন্ট কিভাবে খুলবেন। এটি মূলত যারা ফ্রীল্যান্স প্রফেশনাল হিসেবে কাজ করছেন তাদের জন্য ইফেক্টিভ।

আমি আগেই বলেছি, আপনার প্রদত্ত তথ্য সঠিক হতে হবে এবং আপনাকে সেই তথ্য প্রমানের জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট থাকতে হবে। পেওনিয়ার মূলত যে ডকুমেন্ট গুলোকে সাপোর্ট করে তা হচ্ছে

  • স্মার্ট এনআইডি
  • পাসপোর্ট
  • ড্রাইভিং লাইসেন্স
  • ওল্ড এনআইডি (ক্ষেত্র বিশেষে)

এছাড়াও আপনার এড্রেস ভ্যারিফাই করার জন্য আপনার ইউটিলিটি বিল চাইতে পারে। আপনার অবশ্যই একটি লোকাল ব্যাংক একাউন্ট থাকতে হবে। যা একাউন্ট খোলার সময় দিতে হবে।

এবার দেখে নেই কিভাবে পেওনিয়ার একাউন্ট খোলা যায়ঃ

পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার জন্য আপনি প্রথমে এই লিঙ্ক এ ক্লিক করুন।

তারপর আপনার কিছু বেসিক তথ্য দিতে হবে। আপনার নাম, ইমেইল, এবং জন্ম তারিখ। মনে রাখতে হবে, আপনি যে ডকুমেন্ট সাবমিট করবেন, সেখানে আপনার সব তথ্য যেভাবে আছে, ঠিক সেভাবেই আপনার তথ্য গুলো দিতে হবে।

কিভাবে Payoneer পেওনিয়ার একাউন্ট খুলবেন? 1

এবার আপনার কন্টাক্ট ডিটেইল যেমন ঠিকানা, এবং ফোন নাম্বার দিতে হবে।

কিভাবে Payoneer পেওনিয়ার একাউন্ট খুলবেন? 2

এবার আপনার একটি পাসওয়ার্ড সিলেক্ট করতে হবে। একটি সিকিউরিটি প্রশ্ন সিলেক্ট করতে হবে এবং তার উত্তর দিতে হবে। এই প্রশ্নের উত্তরটি আপনার মনে রাখতে হবে, তাই এমন প্রশ্ন সিলেক্ট করুন, যার উত্তর আপনি সহজেই মনে রাখতে পারেন। তারপর আপনি যে ডকুমেন্ট দিয়ে আপনার একাউন্ট ভ্যারিফাই করবেন, তা সিলেক্ট করুন ড্রপ ডাউন থেকে এবং তার নম্বর দিন। তারপর ক্যাপচা গুলো পূরণ করে পরবর্তী ধাপে যেতে হবে।

কিভাবে Payoneer পেওনিয়ার একাউন্ট খুলবেন? 3

এটি হচ্ছে রেজিস্ট্রেশনের শেষ ধাপ। এই ধাপে আপনি যে লোকাল ব্যাংক এ টাকা তুলবেন, সেই ব্যাংক ডিটেইল দিতে হবে। মনে রাখতে হবে একাউন্ট হোল্ডার এর নামের সাথে, কানেক্টেড ব্যাংক একাউন্টের তথ্য মিলতে হবে।

তারপর টার্মস এন্ড কন্ডিশন, প্রাইভেসি এবং কুকিস, প্রাইসিং এবং ফী সেকশন গুলোর চেকবক্স গুলো ক্লিক করে সাবমিট বাটনে ক্লিক করলেই আপনার রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়ে যাবে।

কিভাবে Payoneer পেওনিয়ার একাউন্ট খুলবেন? 4

রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হবার পর, পেওনিয়ার থেকে আপনি একটি ইমেইল পাবেন, যে আপনার একাউন্ট রিভিউতে আছে, এবং ৩-৫ ওয়ার্কিং ডে’র মধ্যে আপনি তাদের কাছ থেকে কনফার্মেশন ইমেইল পাবেন। তবে কখনো কখনো একটু বেশি সময় লাগতে পারে। সে ক্ষেত্রে আপনি কাস্টমার সাপোর্টে কল দিতে পারেন, অথবা আমাকেও জানাতে পারেন। আমাকে জানাতে এখানে ক্লিক করুন।

একাউন্ট রিভিউ এর পর আপনার একাউন্ট ব্যাবহার উপোযোগী হয়ে যাবে, অথবা আপনার একাউন্ট এপ্রুভ হবে না। একাউন্ট রেডি হবার পর আপনাকে কিছু তথ্য দিতে হবে। এই তথ্যগুলো ভ্যারিফিকেশন সেন্টার সেকশনে পাবেন। মূলত আপনাকে আপনার এনআইডি/পাসপোর্ট/ড্রাইভিং লাইসেন্স এর স্ক্যান কপি দিতে হবে।

পেওনিয়ারে কোম্পানি একাউন্ট খোলার পদ্ধতিটা অলমোস্ট সেম, আমি আমার পরবর্তী পোস্টে সেটার উপরে লিখবো ।

https://youtu.be/QLcg9oEzbvo
আপনি চাইলে সরাসরি ভিডিওটি দেখে একাউন্ট খুলতে পারেন!!

আজ এ পর্যন্তই, সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন… আর ভালো লাগলে পোষ্টটি সেয়ার করবেন আপনার সোয়াল মিডিয়া একাউন্ট এ। ধন্যবাদ!

Comments (No)

Leave a Reply

এই সাইটের কোন লেখা কপি করা সম্পুর্ন নিষেধ