ওয়েব পেজ স্পীড কেন Google র‍্যাঙ্কিং পাওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ?

ওয়েব পেজ এর স্পীড Google রেঙ্কিং পেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রকৃতপক্ষে গুগল ইন্টারনেট ইউজারদের কথা বিবেচনা করে, ইউজারদের এক্সপেরিয়েন্স এনালাইজ করে ওয়েবসাইটের পেজ স্পীড ২০১০ সালের এপ্রিল এর দিকে তাদের এলগরিদম প্রক্ক্রিয়াই অন্তরভুক্ত করে।

“যারে দেখতে নারী তার চলন বাঁকা” বাংলা এই প্রবাদ এর মানে সবাই জানেন। তেমনি এর বিপরিত দিকটাও আমরা সবাই জানি “যাকে ভাল লাগে তার সব কিছুই ভাল লাগে”। তেমনি একটা ওয়েবসাইট দেখতে সুন্দর হয়াটা যতটা জরুরি তেমনি সাইতের লোডিং স্পীড ও অত্যান্ত জরুরি visitor এর জন্য। আপানার সাইটটা যত তাড়াতাড়ি লোড হবে, ভিজিটর ততবেশি আপনার সাইটে অপেক্ষা করবে। আর বার বার আপনার সাইটে ফিরে আসবে তার ইনফরমেশন জানার জন্য বা আপনার সেবাটি নেওয়ার জন্য। সেই সাথে তার বন্ধুদের ও রেফার করবে।গুগল দীর্ঘদিন এনালাইসিস করে দেখছে যে, কম স্পীড ওয়েব পেজ সাইট এ ইন্টারনেট ইউজাররা অপেক্ষা কম করে অন্য সাইট এ চলে যায়, অপরদিকে যে ওয়েব পেজ এর স্পীড বেশি, অল্প সময়ে লোড হয় সেসব সাইট এ বেশিক্ষন অবস্থান করে। বর্তমানে এটি On Page SEO এর জন্য গুরুত্ব পূর্ণ বিষয়।

যখন ওয়েব পেজ স্পীড কম থাকে একটি ওয়েব সাইট এ তখন ঐ ওয়েব সাইট এর bounce রেট কমে যায়, যা Google এর একটি অন্যতম রাঙ্কিং factor। আর যখন একটি ওয়েব সাইট এর পেজ স্পীড বেশি থাকে তার মানে পেজ লোড হতে ১-২ সেকেন্ড সময় লাগে সেসব ওয়েব সাইট এর রাঙ্কিং দ্রুত উন্নতি হয় এবং প্রচুর visitor বৃদ্ধি করে । তবে লক্ষ রাখতে হবে পেজ স্পীড যেন ৫ সেকেন্ড এর বেশি না হয়।

একজন ওয়েব সাইট এর মালিক কখনো এ বিষয়ীটি এড়িয়ে যেঁতে পারে না। কারন ওয়েব পেজ স্পীড এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ওয়েব সাইট এর মালিক এর জন্য। কারন বেশি পেতে আপনাকে অবশ্যই ওয়েব পেজ স্পীড বাড়াতে হবে বর্তমানে সারা ওয়ার্ল্ড এ স্মার্ট ফোন এর ব্যবহার বাড়ছে দিন দিন । সুতরাং মোবাইল ফোন এর visitor পেতে আপনাকে অবশ্যই পেজ স্পীড বাড়াতে হবে । যে কারনে ওয়েব ডিজাইনেও পরিবর্তন আসছে, আর সবাই রেস্পনসিভ ওয়েব সাইট তৈরি করছে।আসুন দেখে নেই কিভাবে একটি সাইট এর ওয়েব পেজ এর স্পীড বাড়ানো যায়ঃ১. ওয়েব পেজ স্পীড বাড়ানোর জন্য ইমেজ সাইজ এর দিকে আপনাকে প্রথমে নজর দিতে হবে কারন ইমেজ সাইজ যদি বেশি হয় তাহলে একটু ভেবে দেখুন লোড হতে সময় লাগবে কি না, অবশ্যই বুজতে পারছেন এবার বিষয়ীটি। গুগল ইমেজ সাইজ 20kb এর নিচে রাখতে advice করে।২. একটি ওয়েব সাইট এর হোম পেজ এ বেশি পরিমান ওয়েব কন্টেন্ট রাখা যাবে না কারন হোম পেজ এ কন্টেন্ট বেশি থাকলে ওয়েব সাইট লোড হতে সময় বেশি নিবে।

৩. সব css file গুলো একটি বাইরের file এ নিয়ে head এর সাথে যুক্ত করে দিলে ওয়েব পেজ স্পীড বাড়বে । ইন লাইন এবং ইন্টারনাল লাইন পরিহার করা ভাল। কমেন্ট গুলো বাদ দেওয়া ভাল ।

৪. যখন একটি ওয়েব সাইট এ কন্টেন্ট ডেলিভারি নেটওয়ার্ক যুক্ত করা হবে তখন প্রধান সার্ভার এ লোড কম পড়বে এবং ইনফর্মেশন পারাল্লালি লোড হবে । এটি ওয়েব পেজ স্পীড বাড়াতে সাহায্য করে ।

৫. একটি ওয়েব পেজ এ যত সম্ভব 301 permanent redirect ব্যবহার না করা ভাল, কারন এটি ব্যবহার করলে browser বেশিসময় নেয় পেজ লোড করতে ।

৬. JS ফাইল এর ক্ষেত্রে এক্সটারনাল ফাইল ব্যাবহার না করে script এর কোড গুলো head tag এ ব্যাবহার করাই ভালো। JS code এ comments বাদ দেওয়া উচিৎ।

৭. যাদের ওয়েব সাইট WordPress এ তৈরি করা তাদের সাইট এর স্পীড বাড়ানোর জন্য একটি চমৎকার WordPress Plugin ব্যাবহার করে খুব সহজেই পেজ স্পীড বাড়িয়ে নিতে পারেন।

আমি পরবর্তীতে প্রতিটি বিষয়ের উপর বিস্তারিত আলোচনা করবো। আসা করি আমার সাথেই থাকবেন।

যে সব টুলস ব্যবহার করে আপনি আপনার ওয়েব পেজ স্পীড দেখতে পারেনঃ

https://developers.google.com/speed/pagespeed/insights/

http://www.webpagetest.org/

http://tools.pingdom.com/fpt/

http://gtmetrix.com/

 

লেখক: মোঃ নাজমুল ইসলাম

 

Comments (No)

Leave a Reply