এই সাইটের কোন লেখা কপি করা নিষেধ

আপনি যখন ইন্টারভিউয়ে

ইন্টারভিউকে আধুনিক বিশ্বে পার্সোনালিটি টেস্ট বলা হয়। এটি এখন আর প্রার্থী কতটা জানে, তার পরীক্ষা নয়। এটি প্রার্থীর সামগ্রিক ব্যক্তিত্বের পরীক্ষা। কনটেন্টভিক্তিক না হয়ে ইন্টারভিউ এখন হয়ে গিয়েছে অনেকটা সাইকোলজিক্যাল টেস্টের মতো। ভালো কমিউনিকেশন স্কিল, আত্মবিশ্বাস এবং নিজের বিষয় ছাড়াও কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স সম্পর্কে ভালো ধারণা না থাকলে পার্সোনালিটি এ টেস্ট পার হওয়া কঠিন। পার্সোনালিটি টেস্ট কিন্তু কোনো ক্রস-এগজামিনেশন নয়। এটাকে একটা আলোচনাও বলতে পারেন। বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে শোনা হল ইন্টারভিউয়ের মূলমন্ত্র। ইন্টারভিউয়ে প্রার্থীর পড়াশোনা, দক্ষতা ও কমিউনিকেশন স্কিল এসব একসঙ্গে যাচাই করা হয়। দেখা হয় প্রার্থীর মধ্যে রয়েছে কতটা একাগ্রতা আর কাজের প্রতি নিষ্টা।


নিয়োগকর্তা প্রার্থীর যে যে বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য করেন


১. যোগ্যতা

২. পজেটিভ মনোভাব
৩. সংস্থার প্রতি আগ্রহ
৪. কাজের উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা
৫. কমিউনিকেশন স্কিল
৬. কাজের অভিজ্ঞতা (যদি থাকে)


ইন্টারভিউয়ে প্রার্থীর যা করণীয়ইন্টারভিউ হল কর্মজগতে প্রবেশের পরীক্ষা। এতে লক্ষ্য করা হয়, এই কাজের জন্য প্রার্থী নিজেকে কতটা যোগ্য প্রমাণ করতে পারছে। ইন্টারভিউ নিয়ে অহেতুক আতঙ্কে ভোগার দরকার নেই। আবার খুব একটা হালকাভাবে ভাবতে গিয়ে ব্যাপারটাকে কোনো গুরুত্ব দিলাম না, এমনটা হলেও চলবে না। 
পূর্ব প্রস্তুতি 
যে সংস্থায় চাকরির ইন্টারভিউ দিতে হবে, সেই সংস্থা সম্পর্কে আগে যতটা সম্ভব জেনে যাওয়া ভালো। সংস্থার যদি কোনো ওয়েবসাইট থাকে, তবে তা ভালো করে পড়ে নিতে হবে। সংস্থার খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে কিছু প্রশ্ন করতে পারেন নিয়োগকর্তারা, তাই এই বিষয়টা হেলাফেলার নয়।

ইন্টারভিউয়ে ভাল ফলাফল পেতে হলে প্রেকটিস করা দরকার। বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে বসে মক ইন্টারভিউয়ের অভ্যাস করতে পারলে ভালো হয়। এতে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। আপনার কোথায় ঘাটতি রয়েছে তা বন্ধুরাই জানিয়ে দিতে পারবে। যে পদের জন্য ইন্টারভিউ নেয়া হচ্ছে, সেই পদের বেতন ও অন্যান্য সুযোগসুবিধা সম্পর্কে জেনে রাখা উচিত। একটি ফাইলে বা ব্রিফকেছে দরকারি কাগজপত্র গুছিয়ে নিতে হবে। সঙ্গে মার্কশিট ও সার্টিফিকেটের ফটোকপি নিয়ে যেতে হবে। জামা-কাপড়ের ব্যাপারটা সংস্থার প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। কর্পোরেট হাউজে ফরমাল পোশাক পরে যাওয়া উচিত, ক্যাজুয়াল ড্রেস এড়িয়ে চলাই ভালো। ইন্টারভিউয়ের পাঁচ থেকে দশ মিনিট আগে পৌঁছানোর চেষ্টা করবেন। তাহলে কিছুটা ফ্রেশ ও মানসিকভাবে প্রস্তুতি নেয়ার সময় পাবেন এবং ইন্টারভিউয়ে আপনার আগ্রহও প্রকাশ পাবে। বেশি আগে চলে যাবেন না। সেটা আবার দেরি করে যাওয়ার মতোই দৃষ্টিকটু। সঙ্গে করে অন্য কাউকে না নিয়ে যাওয়াই ভালো। এতে এমন মনে হতে পারে যে, আপনি পরনির্ভরশীল অথবা আপনার আত্মবিশ্বাসের অভাব রয়েছে। ইন্টারভিউয়ের সময় অবশ্যই মোবাইল ফোন বন্ধ রাখবেন।
ইন্টারভিউ চলাকালীন 
ইন্টারভিউ রুমে ঢুকেই পরীক্ষককে বিনয়ের সঙ্গে সালাম দিন। যদি বোর্ডে একাধিক সদস্য থাকেন, সালাম দেবার সময় সকলের দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাবেন। ইন্টারভিউ বোর্ডের মুড বুঝে চলতে হবে। যদি তাঁরা আপনার সঙ্গে ফরমাল আচরণ করেন তবে আপনিও তাই করুন। যদি তাঁরা হালকা মুডে  আলোচনা চালিয়ে যেতে চান, সেক্ষেত্রে আপনিও একটু হালকা মুডে কথাবার্তা চালিয়ে যেতে পারেন। কিন্ত অতিরিক্ত ক্যাজুয়াল কথাবার্তা না বলাই ভালো। আপনাকে বসতে না বলা অবধি একটু অপেক্ষা করুন। ঘরে ঢুকেই চেয়ার টেনে বসে পড়াটা শোভন নয়।


প্রশ্নকর্তার চোখে চোখ রেখে কথা বলবেন। এই ‘আই কনট্যাক্ট’ অত্যন্ত জরুরি। না হলে মনে হতে পারে যে, আপনি মিথ্যা বলছেন বা আপনার আত্মবিশ্বারসের অভাব আছে। ইন্টারভিউ চলাকালীন মুখে কিছু না রাখাই ভালো। যদি আপনাকে চা-কফি অফার করা হয়, নিতে পারেন। তবে স্ন্যাক জাতীয় খাবারে সোজা বলে দিন, ‘নো থ্যাস্কস’। তবে বিনয়ের সঙ্গেই এ ধরনের কথা বলবেন।

 
নিজের সম্পর্কে বলতে বলা হলে
চাকরির ইন্টারভিউ-এর প্রশ্নের যদি কোনো সাজেশন বই হত, তা হলে এই প্রশ্নটিই দেখা যেত প্রথম পাতায়। শতকরা নিরানব্বই জন চাকরিপ্রার্থীই এই প্রশ্নের মুখোমুখি হন ইন্টারভিউ বোর্ডে এসে। আপনার রেজাল্ট, একাডেমিক বা প্রফেশনাল ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে সব তথ্যই তো দেয়া থাকে বায়োডাটায়। তবুও ইন্টারভিউয়ার এই প্রশ্ন দিয়েই শুরু করেন। নিজের সম্পর্কে বলা মানেই নিজের ঢাক নিজে পেটানো নয়। আবার এই প্রশ্নের উত্তরে একেবারে কিছু না বলাও বোকামি। এক্ষেত্রে যদি নিজের স্কুল-লাইফের কথা দিয়ে শুরু করে দেন, তা হলে প্রশ্নকর্তা মাঝপথেই আপনাকে থামিয়ে দিয়ে অন্য প্রশ্নে চলে যেতে পারেন। তখন মনে হবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কথাই তো বলা হল না। কিন্ত উনি তো থামিয়ে দিলেন। আগে থেকেই ভেবে রাখা ভালো এই সময় কী বলতে হবে। নিজের সম্পর্কে নিয়োগকর্তাকে জানানোর এটাই তো আসল সময়। কোথায় শুরু করবেন, কোথায় শেষ করবেন এবং কী কী বিষয় ছুঁয়ে যাবেন- সবই ভাবতে হবে। আর চাই কথা বলার ফ্লো। মাথায় রাখতে হবে যে, এক্ষেত্রে প্রশ্নকর্তা অন্য প্রশ্নে চলে যেতে পারেন। তাঁর মনোযোগ ধরে রাখার জন্য কথা বলার স্টাইলে নতুনত্ব আনতে হবে। বিষয়টি বাড়িতে চর্চা করে যাওয়া ভালো। নিজের গুণাগুণ জানানোর পালা বোধ হয় এবার এসেছে। তার মানে এই নয় যে, নিজের ঢাক নিজে পেটান। নিজের কথা নিজেকেই বলতে হবে বটে, কিন্ত এটা তো চাকরির স্বার্থে। কোন মনগড়া কথা না বললেই হল।

এই সুযোগে আপনার আগের কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে আলোচনা করা যেতে পারে। আগের সংস্থায় কত বেতন ছিল, তা জিজ্ঞেস করতেই পারেন নিয়োগকর্তা। এও জানাতে হবে, কেন আগের চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। তবে কখনই সেই সব সংস্থার নিন্দা করা উচিত নয়। এতে প্রশ্নকর্তা খুশি হবেন না।


নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানানোর পর এমন কোনো পারদর্শিতার কথা বলুন, যা আপনার নতুন কাজে সাহায্য করতে পারে। একা শুনে নিয়োগকর্তারা আপনার প্রতি আগ্রহ দেখতে পারেন। সুতরাং নিজের কথা বলতে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় আপনার কাজের সাফল্য, অভিজ্ঞতা এবং পারিপার্শ্বিক বিষয় সম্পর্কে খোলাখুলি আলোচনা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।


শুধু কী বলবেন সে কথা ভাবলেই তো হবে না, কীভাবে বলবেন সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। নিজের কমিউনিকেশন স্কিলের পরীক্ষা আগেই করে নিন। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের সঙ্গে কথাবার্তা চালিয়ে যান। নিয়োগকর্তার স্বার্থে আপনি কীভাবে কাজ করবেন অথবা এই সংস্থায় আপনার মতো কর্মী কেন অপরিহার্য, সে-কথাও আপনার বক্তব্যে উঠে আসা উচিত।


নিজের সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক কথা বলা ঠিক নয়। নিজের দোষ-ক্রটি নিয়ে একটি শব্দও এই বক্তব্যে খরচ করা ঠিক নয়। দোষ-ক্রটি নিয়ে প্রশ্ন করলে তবেই তা নিয়ে কথা বলা উচিত। এমনটা ভাবা ঠিক নয় যে, আপনি নিজের সম্পর্কে যা বলছেন তা সবটাই প্রশ্নকর্তা বিশ্বাস করে নেবেন। তাঁকে কিছু উদাহরণ দিয়ে বিশ্বাস করতে সহায়তা করুন।

যেমন, সমস্যা সমাধান করার ক্ষমতা প্রসঙ্গে এটা বলে দিন যে, আগের কর্মস্থলে আপনি কী ধরনরে সমস্যায় পড়েছিলেন এবং কীভাবে তার সমাধান করেছিলেন। ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে বুঝেশুনে কথা বলাই ভালো। প্রশ্নকর্তার মনোভাব বুঝে এই প্রসঙ্গে আলোচনা করতে হবে।  নিজের বক্তব্যের শেষের দিকে জানিয়ে দিন, কেন আপনি এই সংস্থায় কাজ করতে আগ্রহী। সংস্থা সম্পর্কে নতুন কোনো তথ্য জানার হলে তা প্রশ্নকর্তার কাছে জানতে চান।


তৈরি থাকুন এই সব প্রশ্নের জন্য


আপনি এই ক্যারিয়ার বেছে নিলেন কেন?
ঠিকঠাক যুক্তি দিন। বিশেষ করে, আপনি যদি আগে অন্য কোনো ধরনের কাজ করে থাকেন, তবে বিশ্বাসযোগ্য কারণ দেখাবেন।

এই চাকরিটা আপনি চাইছেন কেন?
কখনো বলবেন না, টাকার জন্য। এ ক্ষেত্রে বুদ্ধিমানের কাজ হল, চাকরির ভালো দিকগুলোর কথা বলুন, যে জন্যে আপনি এই ধরনের কাজের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন। সাবধান, আপনি যদি এর আগে কোন চাকরি করে থাকেন, তাহলে সেই চাকরি বা সেই অর্গানাইজেশন সম্পর্কে খারাপ-খারাপ কথা বলে ফেলবেন না, এতে আপনার সম্পর্কে ইন্টাভিউয়ার খুব একটা ভাল ধারণা তৈরি করতে পারবেন।

আপনার মধ্যে কি নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষমতা আছে?

আপনার আগের চাকরিতে কীভাবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তার একটা বিশদ বিবরণ দিতে পারেন এই সুযোগে।

আপনি কী একা একা কাজ করতে ভালবাসেন, নাকি সবার সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করতে চান?

এ প্রশ্নের উত্তরে একটু সচেতন হওয়া দরকার। কিছু চাকরিতে ম্যান ম্যানেজ করতে হয়। অর্থাৎ টিমওয়ার্ক থাকা বেশি জরুরি। আবার কয়েকটি ক্ষেত্রে একা কাজ করাটাই সুবিধাজনক। আগে থেকে এটা আন্দাজ করা শক্ত। তাই সেফ সাইডে থাকা ভাল। বলুন যে, দু’ধরনের কাজই আপনি ভালভাবে করতে পারেন।

আপনি কী নিজেই নিজেকে চালনা করতে পারেন, না অন্য কাউকে দরকার হয়?

নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন কী বলতে হবে? আপনি নিজেই নিজেকে চালনা করতে পারেন। আর সেই সঙ্গে কয়েকটি ঘটনার কথাও বলে দিন, যেখানে আপনি নিজে বুদ্ধি খাটিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছেন।

আপনার ক্ষেত্রে মোটিভেশনাল ফ্যাক্টর কী কী?

ভাল ক্যারিয়ার গ্রোথ, দক্ষতা অর্জনের সুযোগ, কাজের ক্ষেত্রে সুযোগ, এই সব বলবেন।

আপনার ক্যারিয়ারের লক্ষ্য কী?

এমন লক্ষ্যের কথাই বলবেন যা কোম্পানির স্বার্থের সাথে মেলে। যা শুনলে ইন্টাভিউয়ার আন্দাজ করতে পারবেন যে, আপনিই হতে পারেন এই কাজের জন্য যোগ্যতম।

না বলবেন না

এমন কিছু প্রশ্ন আছে যার ক্ষেত্রে আপনাকে অপশন দেয়া হলেও কোনো অবস্থাতেই ‘না’ বলবেন না।

যেমন: আপনি কী নিজেকে একজন সফল ব্যক্তি হিসেবে দেখতে চান?

উত্তর সব সময় হ্যাঁ হবে। এর পর যুক্তি দিতে হবে, আপনার আগের চাকরির সাফল্যের দিকে, সংক্ষেপে এটা করতে হবে।

আপনার সবচেয়ে বড় সাফল্য কী? কীভাবে তা অ্যাচিভ করলেন?

এটা আগের প্রশ্নের একটা অংশ হতে পারে। এমন একটা উদাহরণ দিন, যে অ্যাচিভমেন্টটা এই চাকরির ক্ষেত্রে মানানসই হবে। আসলে ইন্টারভিউয়ার এটাই চাইছেন।

ভ্যাবাচ্যাকা খাবেন না

আরো কিছু প্রশ্ন আছে, যার ক্ষেত্রে অপশন থাকলে হ্যাঁ বা না দু’টোই বলতে পারেন। সহজ ভঙ্গিতে উত্তর দিতে চেষ্টা করুন। এমন কোনো উত্তর দেয়ার কথা ভাববেন না যা বলতে গেলে হাজারবার হোঁচট খেতে হয়।

যেমন: এই ধরনের প্রশ্ন-

আপনার সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা কী?

অবশ্যই চাকরি জীবনের কথা বলবেন। ব্যক্তিগত জীবনের কথা বলতে যাবেন না। আপনি যত বড় ভুল করে থাকুন না কেন, সেই বৃত্তান্ত দিতে যাবেন না। এমন উদাহরণ দেবেন যাতে আপনি সাময়িকভাবে ব্যর্থ হলেও পরবর্তিকালে সেই ভুলটা শুধরে নিতে পেরেছেন। অথবা এমন কোনো উদাহরণ দিন, যে ভুলটা খুবই নগন্য।

কীভাবে আপনি নিজেকে ইমপ্রুভ করতে চান?

খুব সাবধান, এই প্রশ্ন করে ইন্টারভিউয়ার খুঁজে বের করতে চান আপনার দুর্বলতা কোথায়। ‘আমি এটা পারি না’ বা ‘আমার দ্বারা এ ধরনের কাজ হয় না’ এ ধরনের নেতিবাচক কথা বলবেন না। বরং তার বদলে আপনি কোন ধরনের কাজ শিখতে চান তার আলোচনা করে যেতে পারেন।

আগের চাকরি থেকে এই চাকরির পার্থক্য কোথায়?

পার্থক্য না বলে সমতাগুলোই বোঝানোর চেষ্টা করবেন। কারণ, ওরা আসলে দেখতে চাইছেন যে, আপনি যে ধরনের কাজ করে এসেছেন তা এই কোম্পানির ওই পদের জন্য উপযুক্ত কিনা।

আগের কোম্পানি সম্পর্কে আপনার মতামত কী?

নিন্দা করবেন না। তাহলে ওরা ভাববেন, এটাই আপনার স্বভাব। ভাল ভাল কথা বলার সাথে সাথে আপনার কয়েকটি খারাপ অভিজ্ঞতাও শেয়ার করতে পারেন।

পিলে চমকানো প্রশ্ন

ইন্টারভিউ বোর্ডে প্রশ্নকর্তা অনেক সময়ই প্রার্থীকে বাজিয়ে দেখতে চান, নানা ধরনের কঠিন প্রশ্ন করে। আপনি তখন ঘাবড়ে যাবেন না মোটেই।

যেমন-

কোম্পানির উন্নতির ব্যাপারে আপনার কী কী কন্ট্রিভিউশন থাকতে পারে?

এই প্রশ্ন আসলে নিজের সম্পর্কে ভাল ধারনা তৈরি করার মস্ত বড় সুযোগ। আপনার আগের চাকরির অভিজ্ঞতা থেকে এমন কিছু উদাহরণ তুলে ধরুন, যেখানে আপনি চাকরি করার সময় কোম্পানির উন্নতি হয়েছে।

কোম্পানির কাজটা আপনি কত দিনের মধ্যে শেষ করতে পারবেন?

আপনি কোন ধরনের কোম্পানিতে কাজ করতে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন, ছোট, মাঝারি না বড়?

এই ধরনের সব প্রশ্নই আপনাকে ঘাবড়ে দেয়ার চেষ্টা করা হতে পারে। যদি প্রশ্নের উত্তর আপনার জানা থাকে, তা হতে বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দ্বারা সেটা স্পষ্ট করে দিন। স্মার্টলি করুন এইভাবে, দ্যাটস অ্যান ইন্টারেস্টিং কোয়েশ্চেন। আপনার হাবভাবেই যেন আত্মবিশ্বাস ফুটে ওঠে।

সতর্ক থাকুন

দু’ধরনের প্রশ্নে আপনাকে বিশেষ সতর্কতা নিতে হবে।

এক: আগের চাকরিতে আপনি কত বেতন পেতেন?

দুই: এই কোম্পানিতে আপনি কত বেতন আশা করেন?

প্রথম প্রশ্নের ক্ষেত্রে আপনার মুনশিয়ানা দেখান। আগের অফিসের বেতন সম্পর্কে জেনে গেলে ইন্টারভিউয়ার আপনার বেতন আগের কোম্পানির বেতনের উপর ভিত্তি করে কমিয়ে বলতে পারেন। যদি আপনার বেতন মোটামুটি মার্কেট রেটেই হয়, আর আপনার তার চেয়ে কিছু বেশি আশা করে থাকেন তাহলে বলতে পারেন। কিন্তু যদি তা না হয়? যদি আপনার আগের বেতন অনেক কম হয় বা আপনি বেশি বেতন আশা করেন, তা হলে? সবচেয়ে ভাল, এই প্রশ্নটা চালাকি করে এড়িয়ে যাওয়া। নম্রভাবে বলুন যে, আপনার দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন। এমনকি আপনি পাল্টা প্রশ্ন করে জেনে নিতেও পারেন যে, আপনাকে কত বেতন দেয়া হবে (যদি সেই অংকটা না জেনে থাকেন)

দ্বিতীয় প্রশ্নের ক্ষেত্রে সতর্ক হউন, এমন ভাব দেখাবেন না যে, আপনি লোভে পড়ে গিয়েছিলেন। যে পদের জন্য ইন্টারভিউ দিচ্ছেন তার স্যালারি রেঞ্জ কত, সেটা জিজ্ঞেস করতে পারেন। যদি ইন্টারভিউয়ের শুরুর দিকে আপনাকে বেতন নিয়ে প্রশ্ন করা হয় তাহলে নির্দ্ধিধায় বলুন যে, ‘আপনার কাজ ও দায়িত্ব’ সম্পর্কে না জেনে বেতন আলোচনা করা সম্ভব নয়। এতে ইন্টারভিউয়ার খুশিই হবেন। আপনি যদি রেজুমেতে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা পাসোর্নাল কনট্যাক্ট হিসেবে কোনো পরিচিত ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেন তাহলে ইন্টারভিউয়ার তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে পারেন। অর্থাৎ তারা আপনার ব্যাপারে কি বলেন। আপনি ভাল ভাল কথাই বলুন কিন্তু যার সম্পর্কে বলছেন তিনি যেন বিষয়টি আগে জানেন।

প্রশ্ন করুন আপনিও

সুযোগ করে ইন্টারভিউয়ারকে প্রশ্ন করা যেতে পারে। আপনাকে যে পদে নেয়া হচ্ছে সে সম্পর্কে যা যা প্রশ্ন সব জিজ্ঞেস করে নিন। তা না হলে চাকরি পেয়েও অন্ধকারে ঢিল ছোড়ার মতো অবস্থা হতে পারে পরবর্তিকালে।

কী ধরনের প্রশ্ন করবেন তা একবার দেখে নিন-

আমার কী কী দায়িত্ব থাকবে?

এই অর্গানাইজেশনের কোন বিভাগে আমাকে যোগ দিতে বলা হবে?

প্রয়োজনে আমি কার কাছে রিপোর্ট করব?

যার কাছে রিপোর্ট করব তিনি কোন পদে রয়েছেন?

আমাকে রিপোর্ট করার মতো কেউ কি থাকবেন? কাজের ব্যাপারে তারা কতটা অভিজ্ঞ?

প্রথম ছমাসে আমাকে কি ধরনের কাজ করতে হবে?

কী ধরনের পারফরম্যান্স লেভেল আমাদের কাছ থেকে আপনারা আশা করেন?

আপনাদের কাস্টমার কারা?

এছাড়াও আপনি প্রশ্ন করতে পারেন কোম্পানির এক্সপেনশন প্ল্যানের বিষয়ে। কোম্পানির বর্তমান অবস্থা কেমন, সেটাও নির্দ্ধিধায় জিজ্ঞেস করতে পারেন। আপনার পদে কতটা উন্নতি করার সুযোগ আছে কিংবা চাকরিতে যোগ দেয়ার কত দিন পর সেই সম্ভাবনা আছে, সেটা সম্পর্কেও খুঁটিনাটি প্রশ্ন করতে পারেন। আর যে প্রশ্ন বেশিরভাগ ছেলেমেয়েরা করতে গিয়ে আমতা আমতা করে, সেটা হল, স্যালারি, বেনিফিট আর বোনাস। এই তিনটি বিষয় জেনে নেয়া খুবই জরুরি। তবে খেয়াল রাখবেন, প্রথমেই এই প্রশ্নগুলো করে বসবেন না। অপেক্ষা করুন, যতক্ষন না আন্দাজ করতে পারছেন যে, চাকরিটা আপনার পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

বডি ল্যাঙ্গুয়েজ

ব্যাপারটা শুনতে হালকা মনে হলেও ইন্টারভিউয়ে এর গুরুত্ব অনেকটাই। একটা ছোট সমীক্ষার কথা বললেই ব্যাপারটা আরো ভালভাবে বোঝা যাবে। সমীক্ষায় দেখা যায়, অধিকাংশ ইন্টারভিউয়ার প্রার্থীর উত্তরের তুলনায় বডি ল্যাঙ্গুয়েজকে বেশি গুরুত্ব দেন। এ রকম ইন্টারভিউয়ার রয়েছেন ৫৫ শতাংশ। অথচ প্রার্থীর উত্তর ও কথাবার্তার স্টাইলকেই গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। বডি ল্যাঙ্গুয়েজের সাথে অনেক সময় আমাদের কথাবার্তা বা আমরা কী বলতে চাইছি তা মেলে না। অথচ বডি ল্যাঙ্গুয়েজ হল মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। সুতরাং ইন্টারভিউয়ার ভাবতে পারেন যে, আপনি মিথ্যে কথা বলছেন। কিন্তু উপায় আছে, আর এই বডি ল্যাঙ্গুয়েজকে আয়ত্বে আনতে রইল কয়েকটি টিপস-

মেনে চলুন

ইন্টারভিউ দিতে এসে পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেয়া ভাল। যখন দরজার বাইরে রয়েছেন. তখন ভুলেও ব্রিফকেস বা ফাইল খুলে নোট পড়তে বসে যাবেন না। বরং সামনে যে পত্রিকা বা খবরের কাগজ পাবেন সেগুলোয় চোখ রাখুন। এতে আপনাকে দেখে মনে হবে- ইন্টারভিউয়ে ঢোকার আগে একটু রিল্যাক্স করে নিচ্ছেন। এর ফলে আপনার আত্মবিশ্বাসী মনোভাব প্রকাশ পাবে।

কাছাকাছি বসা

অনেক ইন্টারভিউয়ার নিজেদের একটু দুরত্বে রাখতে পছন্দ করেন। আবার অনেকে একটু বেশিই কাছ থেকে কথা বলতে চান। তাই সোশাল জোন (১৮-৪৮ ইঞ্চি) না পেরিয়ে যতটা পারবেন কাছাকাছি বসবেন। চেয়ারে সোজা হয়ে বসবেন ও সোজাসুজি তাকাবেন। মনে রাখবেন পেছনে হেলান দেয়া ও নীচের দিকে তাকানো মানসিক দুর্বলতার পরিচয়।

কথা বলার স্টাইল

নার্ভাস হয়ে গিয়ে আমরা এমন কিছু বলে ফেলি যা বলতে চাইনি। আপনার উচিত খুব স্বাভাবিকভাবে কথা বলা। অর্থাৎ কথা বলার গতি হবে অত্যন্ত স্বাভাবিক। আত্মবিশ্বাসী প্রার্থীরা স্বাভাবিক ও সুন্দরভাবে কথা বলেন। তারা নিজেদের উত্তেজনা-উৎসাহ খুব স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ করতে জানেন। অন্যদিকে যারা আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভোগে, তারা কিন্তু নিজেদের গলার আওয়াজ বা কথার উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন না। অযথা তারা জটিল করে কথা বলে। আপনার উচিত নিজের স্বাভাবিক কথা বলা স্টাইল বজায় রাখা। যে প্রশ্নের উত্তর আপনি জানেন না, তা অনুমানের উপর বলতে যাবেন না।

চোখে চোখে কথা

প্রশ্নকর্তার দিকে তাকিয়ে কথা বলুন। আপনার মুখভঙ্গি যাতে স্বাভারিক থাকে, সেদিকে নজর দিন। প্রশ্নকর্তার অঙ্গভঙ্গির সঙ্গে সহমত পোষণ করুন। কোন হালকা কথার সময় হাঁসিমুখ করতে ভুলে যাবেন না। চোখে চোখ রেখে কথা বললে অনেক সাবলীল হওয়া যায়। অনেক প্রার্থীই চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে পারেন না। তারা খুব আড়ষ্ট হয়ে থাকেন্। এর ফলে নেতিবাচক দিকটাই আরো বেশি করে প্রকাশ পায়। সুতরাং চেষ্টা করুন প্রশ্নকর্তার চোখে চোখ রেখে কথা বলতে। প্রশ্নকর্তার চোখের দিকেও নজর রাখুন। যখন দেখবেন তারা আপনার মুখের দিকে তাকাচ্ছেন না, তখন বুঝবেন আপনার কথা তাঁদের খুব একটা পছন্দ হচ্ছে না। যখন তিনি উপরের দিকে তাকান তখন ধরে নিতে হবে যে, আপনার কথা বিশ্বাস হচ্ছে না। সব সময় অবশ্য এমনটা ভাবার কোন কারণ নেই। কারণ, হতে পারে তিনি কিছু মনে করার চেষ্টা করছেন। তবে খেয়াল রাখুন, একটানা সাত থেকে দশ সেকেন্ডের বেশি প্রশ্নকর্তার চোখে চোখ রাখা যাবে না। এতে তিনি অস্বস্থি বোধ করতে পারেন।

প্রশ্নকর্তার দিকে খেয়াল রাখুন
প্রশ্নকর্তার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ থেকে আপনার বুঝে নেওয়াটা কিন্ত জরুরি। যেমন, তাঁরা মাথা সামান্য উপর-নীচে ঝাঁকিয়ে প্রার্থীকে বলতে উৎসাহিত করেন। প্রশ্নকর্তা কথা শুনতে শুনতে সামনের দিকে ঝুকে পড়লে বুঝতে হবে তারা প্রার্থীর কথা শুনতে খুবই আগ্রহী। প্রশ্নকর্তা হঠাৎ হাত ভাঁজ করলে বুঝতে হবে প্রশ্নকর্তা আপনার জবাবে খুশি হতে পারেননি। তবে প্রশ্নকর্তা যে সব সময় ভেবেচিন্তে এমন আচরণ করবেন তাও নয়। আবার এমন আচরণ করলেই যে তাঁর সম্পর্কে এমন ধারণা করে নিতে হবে, তাও নয়। তবে সাবধানের মার নেই বলেই এই সব কথা বলা হল। আসলে সঠিক ও স্বাভাবিক আচরণ করলেই আপনার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ হবে অত্যন্ত ইতিবাচক। ফলে আপনার উৎসাহ-উদ্দীপনা প্রকাশ পাবে।


নিজের দুর্বলতা
ইন্টারভিউ বোর্ডে আপনার কোনো দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ঘাবড়ে যাওয়াটা কিন্তু মোটেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। এরকম কথা উঠলে খোলা মনে সেটা স্বীকার করে নিন। সঙ্গে সঙ্গে আপনার প্লাস পয়েন্টগুলোও মনে করিয়ে দিতে ভুলে যাবেন না। নিজের দুর্বলতা প্রকাশ না করার কয়েকটি টিপস—

 
* নিজের দুর্বলতা এমনভাবে প্রকাশ করুন, যাতে আপনি প্রমাণ করতে পারেন যে, এই দুর্বলতা কোন কোন সময় প্লাস পয়েন্ট হিসেবে দেখা হতে পারে। 
* নিজের এমন একটি দুর্বলতার কথা প্রশ্নকর্তাকে জানান, যা আপনি ইতিমধ্যে কাটিয়ে উঠেছেন। এতে প্রশ্নকর্তা বুঝতে পারবেন যে, দুর্বলতা থাকলেও তা কাটিয়ে ওঠা আপনার পক্ষে অসাধ্য নয়।

* একান্তই যদি জানতে চাওয়া হয় যে, আপনার দুর্বলতার কোনো বিষয়ে সম্পর্কে, তা হলে দুর্বলতা নেই বলাটা বোকামি। কারণ প্রত্যেকেরই কোনো না কোনো বিষয়ে একটু আধটু দুর্বলতা আছে। এসব ক্ষেত্রে এমন একটি দুর্বলতার কথা জানান, যা আপনার কাজের সঙ্গে যুক্ত নয়।
* কাটিয়ে উঠতে শুরু করছেন এমন কোনো দুর্বলতার কথাও জানান। এতে আপনার রিকভারিং স্পিরিট প্রকাশ পাবে।

* এ ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হলে সবচেয়ে কঠিন ও ভালো উপায় হল, কথার ভাঁজে বিষয়টিকে এড়িয়ে যাওয়া। তবে না পারলে ব্যাপারটা খুব একটা ভালো হবে না।
হংকারী নয় আত্মবিশ্বাসী হউন
শুধুমাত্র আত্মবিশ্বাস প্রকাশের জেরেই অনেকেই সফল হতে পারে একটি ইন্টারভিউয়ে। কিন্তু সমস্যা হল, অনেকের আত্মবিশ্বাস শেষ পর্যন্ত অহংকারে নেমে আসে। সেখানেই হয় গোলমাল। অহংকারী স্বভাবের কর্মী নিয়োগ করতে কোন নিয়োগকর্তাই চাইবেন না। 
আপনার আগ্রহইন্টারভিউয়ারের কাছে সংস্থা সম্পর্কে জানতে চাইতে পারেন। এতে সংস্থা সম্পর্কে আপনার আগ্রহ প্রকাশ পাবে। তবে এমন কিছু জানতে চাইবেন না, যা সংস্থার ওয়েবসাইট থেকেই জানা যায়। সে রকম প্রশ্ন করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। কারণ প্রশ্নকর্তা ভাবতে পারেন যে, আপনি সেই সংস্থা সম্পর্কে কিছুই জানেন না, এমনকী তাঁদের এ ধারনা হতে পারে যে ইন্টারভিউয়ে আসার আগে কোম্পানির ওয়েবসাইটও দেখে যাননি। সংস্থার ওয়ার্ক কালচার নিয়েও প্রশ্ন করা যায়।
নামের চেয়ে কাজ বড়
যে কাজ করবেন সেটিই আসল, আপনার পদের কী নাম দেয়া হল তা নিয়ে মাথা না ঘামানোই ভালো। আজকাল অনেক ছোট সংস্থায় নানা পদের পাল্লায় সব জমকালো নাম দেয়া হলেও আসলে সেই পদের কাজটি অতি সাধারণ মাপের। আবার বড় সংস্থা চায় প্রার্থীরা কাজ নিয়েই বেশি আগ্রহী হোক, কোনো পদ তাকে দেয়া হল সেটি গৌণ বিষয়।

আপনার বেতন
আপনার হয়তো অনেক ডিগ্রি রয়েছে, থাকলেই যে প্রথম অবস্থায় বড়সড় কোম্পানিতে উচ্চপদে চাকরি পাবেন, এমনটা ভাবলে চলবে না। সুতরাং ছোট সংস্থায় ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে নাক ছিটকালে কিন্তু চলবেন না। বেতন নিয়েও প্রথমে কিছু ভাববেন না। যা পাচ্চেন তাই যথেষ্ট। পরে বেশি বেতনের অন্য কোনো কাজে যোগ দেয়ার রাস্তা তো আর বন্ধ হচ্ছে না।

ইন্টারভিউ কি? আরো বিস্তারিত জানতে ভিজিট করতে পারেন-

www.tkincome.com

যোগাযোগ

মো: নজরুল ইসলাম

০১৭১৬-৩৮৬৯৫৮

nazruld@yahoo.com

Comments (No)

Leave a Reply