অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের good side সুবিধাসমূহ

আমরা বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে ব্লগ এবং ইউটিউব থেকে ইনকাম করতে পারি। সেরা উপায়গুলোর মধ্যে অন্যতম হল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। এডসেন্সের মতো এফিলিয়েট ব্লগ থেকে অর্থ উপার্জনের সবচেয়ে লাভজনক এবং জনপ্রিয় উপায়।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের good side সুবিধাসমূহ 1

আপনার যদি একটি ব্লগ, ওয়েবসাইট বা ইউটিউব চ্যানেল থাকে, তাহলে এফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে আপনি খুব সহজে অনলাইনে ইনকাম করতে পারবেন।

তবে শর্ত হচ্ছে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে সহজে অর্থ উপার্জন করতে আপনার একটি ব্লগ, ইউটিউব চ্যানেল বা ওয়েবসাইট থাকতে হবে।

তবে আপনার যদি একটি সোশ্যাল মিডিয়া পেজ বা প্রোফাইল থাকে যেখানে অনেক মানুষ আপনাকে অনুসরণ করে, সেখান থেকেও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আপনি প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে পারেন। অর্থাৎ আপনি চাইলে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে ফেসবুক পেজ বা অন্য কোনো সোশ্যাল মিডিয়া পেজও ব্যবহার করতে পারেন।

এখন আপনি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কীভাবে শুরু করবেন, কেন করবেন এবং কেন বাংলাদেশে বসে ঘুড়ি লার্নিং এর সাথে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করবেন এসব নিয়ে বিস্তারিত কথা হবে পরবর্তী সেকশনে।

অ্যাফিলিয়েটমার্কেটিং কি?

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হলো যখন কোনো ব্যক্তি বা কোম্পানি ইন্টারনেটে অন্য কোম্পানীর প্রোডাক্ট বা সেবা বিক্রি করতে সাহায্য করে। এই লোকেরা, যারা বড় বা ছোট টিম হতে পারে, কোম্পানির প্রোডাক্ট বা সেবা প্রচার করে এবং আরও বেশি লোকের কাছে সেগুলো বিক্রির চেষ্টা করে।

এই বিপণনের কাজটি একটি ব্লগ, ওয়েবসাইট, সোশ্যাল মিডিয়া পেজ এবং ইউটিউব চ্যানেলের মতো অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করে করা হয় যা কোম্পানির ব্র্যান্ড বা পণ্যের সাথে সংযুক্ত থাকে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে শুধুমাত্র কোম্পানিকে তাদের অনলাইন পণ্য বা ইন্টারনেটে কেনা যায় এমন জিনিস বিক্রি করতে সাহায্য করা হয়। আপনি আপনার নিজস্ব ওয়েবসাইট, ব্লগ, সোশ্যাল মিডিয়া পেজে বা এমনকি আপনার YouTube চ্যানেলে এই পণ্যগুলোর প্রচার করতে পারেন ৷

যখন কেউ আপনার বিশেষ লিঙ্ক ব্যবহার করে প্রোডাক্ট দেওয়া জিনিসটি ক্রয় করে, অথবা যদি তারা অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বিশেষ লিঙ্কটি ব্যবহার করে অন্য কিছু কেনে, আপনি সেই বিক্রয়ের জন্য কিছু অর্থ বা কমিশন পাবেন।

তবে আপনি কি বিক্রি করছেন, কোন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিক্রি করছেন তার উপর নির্ভর করে আপনি কমিশন পাবেন।

কোম্পানি সিদ্ধান্ত নেবে আপনি তাদের পণ্য বা সার্ভিস প্রচারের জন্য কমিশন হিসেবে কত টাকা পাবেন। তারা আপনাকে আগে থেকেই এ বিষয়ে সব বলে দেবে বা ওয়েবসাইটে বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের good side সুবিধাসমূহ 2

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর সুবিধা

প্যাসিভ ইনকাম সোর্স হিসাবে বরাবরই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং জনপ্রিয়। সমগ্র বিশ্বব্যাপী অনলাইন ইনকাম হিসাবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং খুব গ্রহণযোগ্য। আসুন জেনে নিই কেন একজন ব্যক্তি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হতে চায়।

১. প্যাসিভ ইনকাম

আপনি সব সময় কাজ না করেও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। যাকে বলে প্যাসিভ ইনকাম। আপনাকে একটি বা এক প্রকার পণ্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা রাখতে হবে, তা নিয়ে লিখতে হবে বা ভিডিও বানাতে হবে এবং প্রচার করতে হবে, তারপরে আপনি সেখানে কম সময় দিলেও এটি থেকে ইনকাম চালিয়ে যেতে পারবেন। আপনি অতীতে যে রিসোর্স তৈরি করেছেন তা থেকেই সব সময় ইনকাম পাবেন।

২. ফ্লেক্সিবিলিটি

একজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হিসাবে, আপনি অন্য কোম্পানীর প্রোডাক্ট বা সেবা বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করেন। এই পণ্যগুলো বিক্রি করার জন্য আপনাকে সব সময় কাজ করতে হবে না। আপনি শুধু আপনার রিসোর্স তৈরি করবেন এবং তা থেকে সব সময় ইনকাম করতে পারবেন।

৩. কম ঝুঁকি

একজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হিসাবে, আপনাকে প্রোডাক্ট বা সেবা তৈরির বিষয়ে চিন্তা করতে হবে না। আপনার কাজ হল মানুষকে তাদের পছন্দের জিনিস কিনতে সাহায্য করা। আপনি প্রচার করতে পারেন এমন কিছু প্রোডাক্ট বা সেবা, আপনার অনলাইন মাধ্যমে বিক্রি করার প্লান করবেন। সুতরাং এফিলিয়েট মার্কেটিং এ আপনার কোন ঝুঁকি নেই বললেই চলে। সবচেয়ে ভাল দিক হল, আপনাকে গ্রাহকদের কোন সমস্যা বা প্রশ্ন মোকাবেলা করতে হবে না।

পণ্যের প্রচার ও বিক্রি কীভাবে করবেন?

আপনি যদি আপনার পছন্দের কোন প্রোডাক্ট বা সেবা সম্পর্কে অন্যদের জানাতে চান, আপনার ব্লগে তা নিয়ে রিভিউ লিখতে পারেন বা YouTube ভিডিও তৈরি করতে পারেন।

ফলে আরও বেশি লোককে আপনার অনুসারি করতে পারবেন এবং, যারা আপনাকে আরও বেশি ইনকামে সহায়তা করবে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের good side সুবিধাসমূহ 3

আপনার ব্লগ পোস্ট বা ভিডিও বিবরণে আপনি যে পণ্যের কথা বলছেন তার জন্য বিশেষ লিঙ্কটি অন্তর্ভুক্ত করবেন। এই লিঙ্কটি আপনাকে ইনকাম করতে সাহায্য করবে যখন আপনার ব্লগ বা ভিডিও অনুসরণে কেউ পণ্য কিনবে।

আপনার ইনস্টাগ্রাম বা অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া পেজে অনেক অনুসরণকারী থাকলে, আপনি সেখানেও যে পণ্যটির প্রচার করছেন সে সম্পর্কে কন্টেন্ট শেয়ার করতে পারেন।

এর মানে হল আপনি ইন্টারনেটে অন্য কোম্পানির প্রোডাক্ট বা সেবা সম্পর্কে বলে এবং বিক্রি করে প্রচুর টাকা ইনকাম করতে পারেন৷

এইভাবে প্রতি মাসে ইনকাম করছে এমন লোক এখন বাংলাদেশেও অনেক।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে কত টাকা আয় করা যায়?

আপনি এফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে কত টাকা উপার্জন করবেন তা নির্ভর করে আপনি এখানে কতো পরিশ্রম করেছেন তার উপর। অর্থাৎ আপনি যদি চেষ্টা করেন তবে প্রতি মাসে ভাল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

যাই হোক, এই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং গেমটি কীভাবে খেলতে হয় তা পুরোপুরি বুঝতে আপনার কিছুটা সময় লাগতে পারে।

কল্পনা করুন আপনার একটি বিশেষ ওয়েবসাইট, ব্লগ বা চ্যানেল আছে যেখানে আপনি মজাদার ভিডিও তৈরি করেন। আপনি এই ওয়েবসাইট বা চ্যানেল ব্যবহার করে অন্য বাচ্চাদের শেখান যে কীভাবে আকর্ষণীয় ভিডিও তৈরি করতে হয়।

আপনি যখন আপনার ব্লগ বা চ্যানেলে শেয়ার করার জন্য কন্টেন্টগুলো তৈরি করেন, তখন অনেক লোক এটি দেখে।

আপনি এমন একটি কোম্পানির সাথে কাজ করতে পারেন যারা আরও অনেক কিছু শেখায় অর্থাৎ কোর্স বিক্রি করে। তারপর, আপনি ভিডিও তৈরি করতে পারেন বা তাদের কোর্স সম্পর্কে কন্টেন্ট লিখতে পারেন বা ভিডিও তৈরি করতে পারেন এবং তাদের সে কোর্সগুলো কিনতে আগ্রহী করতে পারেন।

তখন অনুসারীরা কিছু কেনার পরে, তারা যা ব্যয় করে তার ১০% থেকে ২০% আপনি কমিশন পেতে পারেন।

যারা আপনার ব্লগ বা চ্যানেল ব্যবহার করে তারা যদি প্রতি মাসে ৫০০ টি কোর্স বা প্রোডাক্ট কেনে, তাহলে আপনি একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ইনকাম করতে পারবেন। সেটা ৫০০ টাকার কোর্স হলেও, ৫০ হাজার টাকার কম না ।

অর্থাৎ আপনি এক মাসে মোট ৫০,০০০ টাকা উপার্জন করতে পারেন শুধুমাত্র কোর্স বিক্রি করে। এবং ঘুড়ি লার্নিং এর মাধ্যমে বাংলাদেশে বসেও অনেকে সেটা করতে পারে।

Affiliate marketing কি কি উপায়ে করা যাবে?

আপনি আপনার বাড়ি বসে ইন্টারনেটে ব্যবহার করে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে সহজে ইনকাম করতে পারেন। সোশ্যাল মিডিয়াতে কিছু পণ্য বা সেবা সম্পর্কে কথা বলে অন্যদের জানিয়ে তাদের পছন্দ করতে সাহায্য করতে পারেন। আপনি কন্টেন্ট লিখে অর্থাৎ ব্লগিং করে বা ভিডিও বানিয়ে খুব সহজে এটা করা যায়।

ব্লগিং মানে আপনার নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরি করা যেখানে আপনি আপনার পছন্দের পণ্য সম্পর্কে কিছু লিখবেন বা শেয়ার করবেন।

উপার্জন goggle -এর মতো সার্চ ইঞ্জিন এমন লোকেদের সেই কন্টেন্ট পৌছে দিতে পারে যারা ওই পণ্য কিনতে আগ্রহী।

রিভিউ সাইটগুলো এমন একটি জায়গা যেখানে আপনি অনেকগুলো পণ্য সম্পর্কে কথা বলতে পারেন এবং অন্যদের সেগুলো কিনতে সাহায্য করতে পারেন।

এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আপনার কন্টেন্ট প্রমোশন করে কাস্টমার নিয়ে আসতে পারেন। যারা আপনার শেয়ারকৃত লিংক ব্যবহার করে কিছু কিনলে আপনি নির্দিষ্ট কমিশন পাবেন। যা বাড়ি বসে ইনকাম সোর্স হিসাবে কোন অংশে কম না।


ঘুড়ি লার্নিং এর এফিলিয়েট কীভাবে কাজ করে, কীভাবে ইনকাম করবেন?

  • প্রথমে আপনার ফোন নাম্বার দিয়ে “Sign-up” করুন। আগে “Sign-up” করা থাকলে “Login” করুন।
  • নতুন হলে ফোন নাম্বার দিয়ে “Sign-up” করুন। আগে রেজিস্ট্রেশন করা থাকলে “Sign-in” করে নিন।
  • “Sign-up” করার পর “Refer & Earn” বাটনে ক্লিক করুন।
  • আলাদাভাবে প্রতিটি কোর্সের নিচ থেকে “Share And Earn” বাটনে ক্লিক করলেই রেফারেল লিংক চলে আসবে।
  • Facebook, Whatsapp এবং LinkedIn প্ল্যাটফর্মে সরাসরি রেফারেল লিংক শেয়ার করা যাবে। এছাড়াও শুধুমাত্র লিংক কপি করে শেয়ার করা যাবে।
  • Facebook, Whatsapp এবিং LinkedIn প্ল্যাটফর্মে সরাসরি রেফারেল লিংক শেয়ার করার সময় কিছু কন্টেন্ট শেয়ার করতে পারবেন।
  • প্রোফাইল আইকয়নে ক্লিক করলেই “Refer & Earn ” মেনুতে গিয়ে আপনার আপনার একাউন্ডট কতো টাকা জমা হয়েছে, কতো টাকা উঠাতে পারবেন, এগুলো বিস্তারিত তথ্য পেয়ে যাবেন ।
  • “Refer & Earn” মেনুতে গিয়ে জানতে পারবেন আপনার একাউন্টে Current Balance কতো টাকা আছে। “Withdraw Cash” বাটনে ক্লিক করলে পরবর্তী ধাপের মেনু চলে আসবে।
  • আপনি কতো টাকা উঠাতে চাচ্ছেন, তা লিখতে হবে। নিচের অপশনে আপনার bKash নাম্বার দিয়ে Submit করলে পরবর্তী ৫ কর্ম দিবসের মধ্যে আপনার টাকা পেয়ে যাবেন।

Benefits of Referral Incone On affiliates markting

  • প্রথমত আপনাকে “Referral Link” টি শেয়ার করতে হবে।
  • আপনার লিংক থেকে কেউ যদি ঘুড়ি লার্নিং এর ওয়েবসাইটে আসে এবং কোর্স কিনে তাহলে তা আপনার রেফারেল ড্যাশবোর্ডে দেখতে পাবেন।
  • আপনার “Referral Link” থেকে কেউ যদি ঘুড়ি লার্নিং থেকে কোর্স কিনে তাহলে তিনি অতিরিক্ত ১০% ডিসকাউন্ট পাবে। যেমন, Basic Digital Marketing কোর্সের দাম ৮০০ টাকা। ৫০% ডিসকাউন্টে বিক্রি হয় ৪০০ টাকায়। আপনার “Referral Link” দিয়ে কিনলে তিনি ৪০০ টাকার উপর অতিরিক্ত ১০% ডিসকাউন্টে ৩৬০ টাকায় কিনতে পারবেন ।
  • আপনি কোর্সের মূল্য ৪০০ টাকার ২০%, মানে ৮০ টাকা bKash এর মাধ্যমে ক্যাশব্যাক পেয়ে যাবেন।
  • বিকাশের তথ্য জমা দেওয়া পরবর্তী ৫ কর্মদিবসের মধ্যে আপনার একাউন্টে টাকা পেয়ে যাবেন।

উপসংহার

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং মানে অন্য লোকের পণ্যের প্রচার এবং বিক্রি করে অনলাইনে অর্থ উপার্জন করা। অনেকে এই কাজ করে ঘরে বসে প্রচুর অর্থ উপার্জন করছেন।

হ্যাঁ, আপনাকে শুরুতে সময় বিনিয়োগ করতে হবে এবং বিষয়টি সম্পর্কে জানতে হবে। আপনি যে পণ্যগুলোকে প্রচার করতে চান তা কীভাবে পছন্দ করবেন এবং অন্যদের কিনতে বা আগ্রহী করতে কীভাবে প্রচার করবেন তা আপনাকে জানতে হবে। এই জিনিসগুলো ভালভাবে বুঝলে আপনি খুব সহজে ইনকাম শুরু করতে পারেন।

Comments (No)

Leave a Reply

এই সাইটের কোন লেখা কপি করা সম্পুর্ন নিষেধ