এই সাইটের কোন লেখা কপি করা নিষেধ

জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস ‘পিপল পার আওয়ার’

বর্তমানে একটি জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস হচ্ছে পিপল পার আওয়ার বা পিপিএইচ (peopleperhour.com) । লন্ডন, যুক্তরাজ্য ভিত্তিক পিপল পার আওয়ার হচ্ছে অনলাইনে আয় করার অন্যতম জনপ্রিয় সাইট।

পিপল পার আওয়ার হচ্ছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি অনলাইন মার্কেটপ্লেস। প্রচলিত অনলাইন মার্কেটপ্লেস যেগুলো ভিন্ন ভিন্ন কাজ আউটসোর্স বা ফ্রীল্যান্সিং করবার জন্য সুযোগ দিয়ে থাকে তাদের মতোই একটি অনবদ্যস্কিল বিক্রি করবার মার্কেটপ্লেস।

এখানে ফিক্সড প্রাইস ও আওয়ারলি রেটে প্রজেক্ট পাওয়া যায়। পিপল পার আওয়ার থেকে আয়কৃত অর্থ তোলার জন্য পেপাল, স্ক্রিল, পেওনিয়ার এবং ব্যাংক ট্র্যান্সফার পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন।

আরেক ভাষায় পিপিএইচ হচ্ছে একটি ক্রাউডসোর্সিং প্লাটফর্ম অর্থাৎ প্রফেশনাল অফিসের সরনাপন্ন না হয়ে যদি কোনো ব্যাবসায়ী বা ক্রেতা সুনির্দিষ্ট কোনো সার্ভিস বা কাজ অনলাইন কমিউনিটি, এই ক্ষেত্রে ফ্রীল্যান্সার বা আউটসোর্সারদের কাছ থেকে নিলাম করে কিনে নেয় তবে তাকে ক্রাউডসোর্স বলা যেতে পারে, যার প্রকৃষ্ট উদাহরন পিপিএইচ।

পিপল পার আওয়ারে যে সব কাজ পাওয়া যায়:

  • লোগো ও ওয়েবপেজ ডিজাইন
  • ওয়ার্ডপ্রেস থিম ডেভেলপমেন্ট
  • সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন
  • রাইটিং এন্ড ট্রান্সলেশন
  • সেলস এন্ড মার্কেটিং
  • সোস্যাল মিডিয়া
  • বিজনেস সাপোর্ট
  • সফ্টওয়ার ডেভলাপমেন্ট
  • ভিডিও এডিটিং
  • ডেটা এন্ট্রি
  • কপিরাইটিং
  • প্রোগ্রামিং
  • অ্যাকাউন্ট সাপোর্ট ইত্যাদি।

পিপিএইচ খুব বেশিদিন হয় নি তাদের যাত্রা শুরু করেছে, ২০০৭ এ জিনিওস ত্রিসিভালু ও সিমস কিতারেস সম্মিলিতভাবে চালু করে ওয়েব-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি। শাখা রয়েছে লন্ডন আর নিউইয়র্ক শহরে।এই মুহুর্তে পিপিএইচে অ্যাক্টিভ ইউজারের সংখ্যা রয়েছে প্রায় আড়াই লক্ষ, তন্মধ্যে এক লাখ আশি হাজার ফ্রীল্যান্সার এবং সত্তর হাজার ক্লায়েন্ট বা বায়ার।

বেশিরভাগ ক্লায়েন্ট বা বায়ারেরা ফুল টাইম প্রফেশনাল কোম্পানির বদলে প্রাধান্য দিয়ে থাকে ক্ষুদ্র উদ্যোগে গড়ে ওঠা একক ফ্রীল্যান্সারদের। আর এই কারনেই পিপিএইচে কোম্পানি বহির্ভুত স্বাধীন ফ্রীল্যান্সারের চাহিদা প্রচুর।

আওয়ার্লি কি:

আওয়ার্লি হচ্ছে মিনিপ্যাক কাজের অফার যা ১ থেকে ৫ দিনেই বায়ারকে করে দিতে হবে। এক্ষেত্রে যে সেবাই হোক যেমন: ওয়েব ডিজাইন, গ্রাফিক্স, প্রোগ্রামিং, বিজনেস প্রোপোজাল সবই আওয়ার্লির আওতায় অফার করা যাবে।

মিনিপ্যাক বলে এই আওয়ার্লির কাজ সম্পাদনা হয় খুব কম সময়ে তাই বায়াররা এসব আওয়ার্লি কিনতে আগ্রহী থাকে তুলনামূলকভাবে বেশি। ৪০% এর উপরে আওয়ার্লি জব পারমানেন্ট বায়ার খুজে পেতে সাহায্য করবে। আওয়ার্লির একটি কাজ সম্পাদনার মানে হচ্ছে পিপিএইচ প্রোফাইলের রাঙ্কিং এ উপরে উঠা।

পিপল পার আওয়ারে কাজের ধরন:

পিপল পার আওয়ার একটি জনপ্রিয় ডুয়াল মার্কেটপ্লেস। এখানে সার্ভিস সেল করা যায় আবার জবে বিড করে কাজ নিয়েও কাজ করা যায়। এ মার্কেটপ্লেসে জনপ্রিয় হল নিজের সার্ভিস নিজে সেল করা। নিজের সার্ভিস নিজে সেল করার জন্য যে সেক্টরের কাজ জানা আছে ওই সেক্টরের উপর স্কিল প্রকাশ করে তা পোস্ট করা।

পোস্টের মধ্যে যে বিষয়ে এক্সপার্ট এবং যে সার্ভিসটা দিতে আগ্রহী ওই সার্ভিসটা নিতে হলে বায়ারকে কত ডলার দিতে হবে তা উল্লেখ করে দিতে হবে। এছাড়াও পিপল পার আওয়ারে আওয়ার্লি অর্থাৎ ঘণ্টা হিসেবে কাজ করা যায়।

আওয়ার্লি হচ্ছে মিনিপ্যাক কাজের অফার যা ১ থেকে ৫ দিনেই বায়ারকে করে দেয়া যায়। মিনিপ্যাক আওয়ার্লির কাজ সম্পাদনা হয় খুব কম সময়ে তাই বায়াররা এসব আওয়ার্লি কিনতে আগ্রহী থাকে তুলনামূলকভাবে বেশি। আওয়ার্লি কাজে সময় পরিমাপ করার জন্য আলাদা কোনো সফটওয়্যার ইন্সটল করতে হয় না ফলে কোনো ধরনের ঝামেলা নেই।

সরাসরি কাজ শেষ করে নিজেই কাজের হিসেব করে তা উল্লেখ করে দেওয়া যায় ক্লায়েন্টের কাছে এবং যত ঘণ্টা কাজ করা হয়েছে সেই হিসেবেই পেমেন্ট দিয়ে দিবে।

পিপিএইচ  এ্যাকাউন্ট তৈরি:

ফ্রিল্যান্সার হিসেবে সার্ভিস  সেল করতে হলে প্রথমে একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। এক্ষেএে পিপিএইচ-এর হোমপেজে কোনো সাইন-আপ অপশন না থাকায় মেন্যুবারের যেকোনো একটিতে ক্লিক করতে হবে। এখনে ক্লিক করার পর  সাইন-আপ বাটনসহ নতুন আরেকটি মেন্যুবার আসবে।

এই সাইন-আপ বাটনে ক্লিক করলে নতুন ইউজারদের জন্য একটি সাইন-আপ পেইজ আসবে, যেখানে মৌলিক কিছু ইনফরমেশন প্রদান করে এ্যাকাউন্ট অপেন করতে হবে। এক্ষেত্রে নিচের তিনটি পদ্ধতির যেকোনো একটি ব্যবহার করা যাবে:

ফেইসবুক প্রোফাইল দিয়ে সাইনআপ: যাদের ফেইসবুক এ্যাকাউন্ট আছে তারা তাদের প্রোফাইলে প্রদত্ত তথ্য ব্যবহার করে পিপিএইচ-এ এ্যাকাউন্ট খোলা যাবে।

লিংকডইন প্রোফাইল দিয়ে সাইনআপ:  লিংকড-ইন প্রোফাইলধারীরা তাদের এ্যাকাউন্টে এর তথ্য ব্যবহার করে পিপিএইচ-এ সাইন-আপ করতে পারেন।

মেইল ব্যবহার করে সাইনআপ: ই-মেইল আইডি ব্যবহার করে এ্যাকাউন্ট তৈরি করতে নিচের তথ্যগুলো প্রয়োজন:

১) নাম: এক্ষেত্রে নামের প্রথমংশ First Name ফিল্ডে এবং শেষাংশ Last Name ফিল্ডে ইনপুট করতে হবে। নামটি অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্রের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ন হতে হবে অন্যথায় অর্থ লেনদেন ও উত্তোলনে সমস্যা হবে।

২) ইমেইল এ্যাড্রেস: সাইন-আপ ফরমের এই ফিল্ডে একটি বৈধ্য ই-মেইল এড্রেস ইনপুট করতে হবে, যা পরবর্তীতে পিপিএইচ-এ লগ-ইন করতে ব্যবহার করতে হবে।

৩)পাসওয়ার্ড: এই ফিল্ডে পিপিএইচ-এ লগ-ইন করতে এমন একটি পাসওয়ার্ড ইনপুট করতে হবে।

৪) লোকেশন: এই ফিল্ডে নিজের অবস্থান/কর্মস্থল এর লোকেশন ইনপুট করার জন্য City, Country এর নাম দিতে হবে।

৫) এ্যাকাউন্ট টাইপ: সবশেষে এ্যাকাউন্টের ধরন সিলেক্ট করতে হবে। পিপিএইচ-এ তিন ধরনের এ্যাকাউন্টের টাইপ আছে।

বায়ার: যারা পিপিএইচ থেকে সার্ভিস কিনতে চান তারা এই এ্যাকাউন্ট টাইপ নির্বাচন করবেন।

সেলার: পিপিএইচ-এ যারা সার্ভিস সেল করতে চান অর্থাৎ ফ্রিল্যান্সাররা এই এ্যাকাউন্ট টাইপ নির্বাচন করবেন।

বোথ: পিপিএইচ এ সার্ভিস কিনা এবং বিক্রি দুটোতেই আগ্রহী এমন ইউজাররা এই এ্যাকাউন্ট টাইপ নির্বাচন করতে হবে।

পিপিএইচের বৈশিষ্ঠ্যসমূহ:

বেশ কিছু কারনে পিপল পার আওয়ার অন্য অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোর চেয়ে খানিকটা ভিন্ন, এর মধ্যে প্রধান একটি কারন পিপিএইচের ইউজার ইন্টারফেস, খুব সহজ আর সোজাসাপ্টাভাবে গঠন করা হয়েছে সাইটটির স্ট্রাকচার বা ম্যাপ, পিপিএইচে আপনি কাজ করবেন অনেকটাই স্বাচ্ছন্দের সাথে, কড়াকড়ি অনেক অংশেই কম, তবে নিয়ম নীতি অমান্য করারও অবকাশ নেই।

কড়াকড়ি কম তবে কিভাবে? যেমন ধরুন ঘন্টা প্রতি হিসেব করে কাজ করছেন, অন্যান্য মার্কেটপ্লেসে আপনার আলাদা একটি সফটওয়ার ইন্সটল করে নিতে হবে “টাইম ট্র্যাক” বা সময় পরিমাপ করার জন্য, কিন্তু পিপিএইচে এই ঝামেলা নেই, সরাসরি কাজ শেষ করে নিজেই হিসেব করে লিখে উল্লেখ করে দিতে পারবেন আপনার ক্লায়েন্টের কাছে, যে কয় ঘন্টা কাজ করেছেন সেই হিসেবেই পেমেন্ট পেয়ে যাবেন।

পিপিএইচের সাইটে ক্লায়েন্টদের বায়ার বলা হয়, আর কন্ট্রাক্টর বা ফ্রীল্যান্সার যারা কাজ করবেন তাদের বলা হয় সেলার, এই বায়ার আর সেলার নিজেদের মধ্যে একটি প্রজেক্ট নিয়ে যখন কাজ করবে, তখন সব কিছু ঘটবে একটি নির্দিষ্ট পাতায়।

পেমেন্ট, চ্যাটিং, ডিপোজিট, ফাইল শেয়ার করা, লিঙ্ক প্রদান, সব কিছু ঘটবে “ওয়ার্কস্ট্রিম”-এ, এই ওয়ার্কস্ট্রিম সহ অ্যাডভান্স কিছু ফিচার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে চতুর্থ খন্ডে, যেখানে সব কিছু আপনাদের গুছিয়ে প্রদর্শন করে দেয়া হবে, যাতে করে অনায়াসেই আপনারা বুঝে উঠে পিপিএইচ ব্যাবহার করা শুরু করতে পারেন, তাই অবশ্যই চোখ রাখুন।

পিপল পার আওয়ারের ক্ষেত্রে সতর্কতা:

১) কাজের অর্ডার পাওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ জমা দিতে না পারলে এ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড হয়ে যেতে পারে।

২) মেসেজে বায়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করার সময় কোনো প্রকার লিঙ্ক, ছবি বা ভিডিও দেয়া যাবে না।

৩) পেমেন্ট মেথড খুব গুরুত্বের সঙ্গে যোগ করতে হবে।

৪) অন্যের এ্যাকাউন্ট থেকে কপি পেস্ট করা যাবে না।

৫) কোনোভাবে একের অধিক এ্যাকাউন্ট খোলা যাবে না।

৬) এ্যাকাউন্ট খোলার কিছুদিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সাবমিট করতে হবে। যেমন- ভোটার আইডি, ব্যাংক স্টেটমেন্ট। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সাবমিট না করলে আইডি সাসপেন্ড হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৭) এ্যাকাউন্ট খোলার সময় সবকিছু সঠিক তথ্য দিতে হবে। মনে রাখতে হবে ভোটার আইডিতে যে রকম আছে ঠিক সেই রকম নাম ব্যবহার করতে হবে।

Comments (No)

Leave a Reply