এসোআয়করি ডট কম বাংলাদেশের প্রথম এবং সবচেয়ে বড় অনলাইন আয়মূলক ব্লগ। ৩০০০০+ মেম্বার প্রায় ৬৫০০ পোস্ট লিখেছেন online earings বিষয়ে। Freelancing বা Online income কে সহজ করার জন্য আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি। আপনও আমাদের সাথে যুক্ত হয়ে আপনার Outsourcing অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারেন নতুন freelancer দের সাথে।

চাকরির ইন্টারভিউ দেওয়ার কৌশল Good Job interviewing a 7 strategies

চাকরির ভাইভার কিছু কমন প্রশ্ন থাকে যেসব প্রশ্নে উত্তর দেয়া সম্ভব যদি আপনার চাকরির ইন্টারভিউ দেওয়ার কৌশল জানা থাকে। ভাইবা তথা ইন্টারভিউতে ভাল করার জন্য যে খুব ভাল মেধাবী ছাত্র হতে হবে তা কিন্তু নয়। বরং ভাল ইন্টারভিউ প্রস্তুতি এবং কৌশল অবলম্বন করতে পারলে আপনি খুব সহজে যেকোনো চাকরির ভাইভাতে সফল হতে পারবেন।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে আসলে ভাইভাতে ভাল করার মূল মানদণ্ড আসলে কি? সঠিক উত্তর এক লাইনে দেয়া সম্ভব নয়, এজন্য প্রয়োজন সংক্ষিপ্ত আলোচনার। যদিও আজকের এই লেখায় চাকরির ইন্টারভিউ দেওয়ার কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হবে তবে আপনি এই টিপস অন্যান্য ভাইবা বোর্ডেও প্রয়োগ করতে পারবেন।

এবার চলুন চাকরির ভাইভা দেয়ার টিপস এবং কৌশল নিয়ে আলোচনায় যাওয়া যাক।

চাকরির ইন্টারভিউ
ভাইভা পরীক্ষায় করণীয়
সাবলীল বাচনভঙ্গি এবং স্পষ্ট ভাবে কথা বলতে হবে।
যে বিষয়ে ভাইভা দিবেন সে বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা ও জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
নিজের জন্মস্থান, নাম ও পরিচয় সম্পর্কে খুঁটিনাটি জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
যে পদে পরীক্ষা দিবেন, সে পদের বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা নিতে হবে।
যে পদে পরীক্ষা দিবেন, সে পদে কেন ইচ্ছুক তার গ্রহণযোগ্য কারণ জানতে হবে।
অতিরিক্ত কোন যোগ্যতা থাকলে তা সিভিতে উল্লেখ করতে হবে তবে যোগ্যতা না থাকলে না দেয়াটাই শ্রেয়।


সাম্প্রতিক ঘটনা সম্পর্কে ধারণা নিয়ে যেতে হবে।
ভাইভা পরীক্ষায় বর্জনীয়
ভাইভাবোর্ডে অনেক কাজ আছে যা আপনার কাছে স্বাভাবিক মনে হতে পারে কিন্তু এসব কারণ আপনার চাকরি না হওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে। আপনার অনেক জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও এসব কর্মকাণ্ড আপনার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে। যাইহোক ভাইভাবোর্ডে কি কাজ বর্জনীয় তা নিয়ে আলোচনা করা যাক।

গাঢ় রঙের চশমা, বিদঘুটে রঙের পোশাক পরে ভাইভাবোর্ডে যাওয়া।
ভাইভাবোর্ডে বসে গা চুলকানো, দাঁত বা কান খোঁচানো।
হাই তোলা, পা নাচানো, অযথা হাত নাড়ানো ইত্যাদি কাজ করা।
প্রশ্ন মনোযোগ সহকারে না শোনা এবং কথার মাঝখানে কথা বলা।
উত্তেজিত হওয়া কিংবা তর্ক করা।
এইতো গেল করণীয় আর বর্জনীয় এবার চলুন জেনে নেয়া যাক কিভাবে আপনি ইন্টারভিউর জন্য নিজেকে প্রস্তুত করবেন।

ভাইভাতে ভাল করার উপায়
চাকরির ইন্টারভিউ

১. রুটিন মাফিক কাজ করা
ভাইভাতে ভাল করতে হলে পূর্ব প্রস্তুতি অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই যেকোনো ভাইভা তথা ইন্টারভিউতে যাওয়ার পূর্ব একটি সঠিক রুটিন তৈরি করে নেয়া জরুরি। ভাইভার জন্য আপনি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করুন। আয়নার সামনে দাড়িয়ে নিজেকে প্রস্তুত করুন।

২. মুদ্রাদোষ পরিহার
অনেকের কথার মধ্যে মুদ্রাদোষ থাকে। যেমন এক কথা বারবার বলা কিংবা প্রত্যেক কথার শেষে কিছু শব্দ বারবার ব্যবহার করা। এছাড়া অযথা হাত-পা নাড়ানো, ভ্রু কুঁচকানো, জিভ দিয়ে ঠোঁট চাটা, তোতলানো ইত্যাদি সব কিছু এই মুদ্রাদোষের অন্তর্ভুক্ত। তাই এই ধরনের বদ অভ্যাস বা মুদ্রাদোষ যদি থেকে থাকে তবে আজ থেকেই তা পরিহার কারর চেষ্টা করুন।

৩. আঞ্চলিকতা ও অশুদ্ধ উচ্চারণ
উচ্চারণের ক্ষেত্রে আঞ্চলিকতা অবশ্যই পরিহার করতে হবে এবং পাশাপাশি অশুদ্ধ উচ্চারণও। এই বদ অভ্যাস পরিহারের জন্য এবং সব সময় শুদ্ধ ভাষায় কথা বলা এবং আয়নার সামনে দাড়িয়ে শুদ্ধ ভাষায় কথা বলার চর্চা করা। এছাড়া প্রয়োজনে বাংলা সাহিত্যের বই পড়া এবং আবৃত্তি কর্মশালায় অংশগ্রহণ করা যেতে পারে।

৪. নিজের সাবজেক্টে সম্পর্কে ধারণা রাখা
আপনি যে সাবজেক্টে অনার্স-মাস্টার্স করছেন সে সাবজেক্ট সম্পর্কে অবশ্যই ধারণা রাখবেন। নিজের অধ্যয়ন করা বিষয়ে যদি নিজেই ভাল না জানেন তবে এটা আপনার দায়িত্ব হীনতার পরিচয় দিবে।

৫. নিজের নাম ও জন্মস্থান সম্পর্কে খুঁটিনাটি জানা
আপনার নিজের নামের সম্পর্কে এবং এই নামের বিখ্যাত মানুষ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। এছাড়া আপনি যেখানে জন্ম গ্রহন করছেন তার

নামকরণ
ইতিহাস
আয়তন
জনসংখ্যা
প্রধান কৃষিজাত দ্রব্য
খনিজ সম্পদ
ঐ স্থানের বিখ্যাত ব্যক্তিদের পরিচয়
এসব বিষয়ে মুখস্থ করতে হবে।

৬. যে পদে পরীক্ষা দিবেন তার জ্ঞান
আপনি যে পদে ভাইভা দিতে যাচ্ছেন সে পদ সম্পর্কে আগে থেকে ধারণা নিয়ে যাবেন। অধিকাংশ সময় দেখা যা মানুষ না জেনে আন্দাজেই বিভিন্ন পদে পরীক্ষা দিতে যায় এবং অজ্ঞতার কারণে ভাইভা বোর্ডে থেকে বিদায় নিয়ে আসে।

৭. উক্ত পদ কেন পছন্দ গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা
আপনি যে পদে চাকরি করতে চাচ্ছেন সে পদটি কেন আপনার প্রিয় এই প্রশ্নটি প্রায় অধিকাংশ ভাইবায় করা হয়ে থাকে। তাই কাঙ্ক্ষিত পদে পরীক্ষা দেয়ার পর্বে সম্ভাব্য, সুন্দর এবং যুক্তিযুক্ত একটি ব্যাখ্যা আগে থেকে প্রস্তুত করে রাখুন। সরকারী চাকরি কিংবা বেসরকারি চাকরি উভয় ক্ষেত্রেই এই ধরণের প্রশ্ন করে থাকে। বিসিএসের ভাইভা বোর্ডে এধরণের প্রশ্ন বেশী করা হয়ে থাকে। যেহেতু বিসিএসে পছন্দের ক্যাডার বা পদ নির্বাচন করার সুযোগ থাকে।

৮. বর্তমান বিষয় সম্পর্কে ধারণা রাখা
বর্তমান ঘটনা প্রবাহ সম্পর্কে ধারণা রাখা জরুরি। অনেক সময় ভাইভা বোর্ডে বর্তমান গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করে থাকে। এটা মৌখিক পরীক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। দেশের একজন নাগরিক হিসাবে আপনি দেশ ও তার পারিপার্শ্বিক অবস্থা সম্পর্কে কতটা সচেতন, তা যাচাই করার মাধ্যম হল এটি। তাই সব সময় নিজেকে আপডেট রাখুন।

শেষ কথা
এই ছিল আজকে চাকরির ইন্টারভিউ দেওয়ার কৌশল নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা। উপরে উল্লেখিত নিয়ম গুলো কেবল চাকরি ক্ষেত্রে নয় বরং যেকোনো প্রতিযোগিতা মূলক পরীক্ষার ক্ষেত্রে উপযোগী। আর বিসিএসের ভাইভা দেয়ার ক্ষেত্রেও এই কৌশল অবলম্বন করা যেতে পারে।

Comments (No)

Leave a Reply

এই সাইটের কোন লেখা কপি করা সম্পুর্ন নিষেধ