এসোআয়করি ডট কম বাংলাদেশের প্রথম এবং সবচেয়ে বড় অনলাইন আয়মূলক ব্লগ। ৩০০০০+ মেম্বার প্রায় ৬৫০০ পোস্ট লিখেছেন online earings বিষয়ে। Freelancing বা Online income কে সহজ করার জন্য আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি। আপনও আমাদের সাথে যুক্ত হয়ে আপনার Outsourcing অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারেন নতুন freelancer দের সাথে।

সমন্বিত খামারে প্রতি মাসে ৫ লাখ টাকা আয়

ফেনীর সোনাগাজী বক্তারমুন্সী মির্জাপুর এলাকার যুবক জাকারিয়া হাসান। উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠ শেষ করে পড়ালেখায় নিয়মিত হতে পারেন নি। জীবিকার তাগিদে এলাকার অন্য যুবকরা বিদেশে পাড়ি দিলেও জাকারিয়া হাসান তা করেননি, খোঁজেননি কোনো চাকরিও। নিজেই কিছু করার আত্মবিশ্বাসে কাজ শুরু করেন বাবা আমিরুল ইসলামের পোল্ট্রি খামারে।
সেই থেকে আর থামতে হয়নি কর্মোদ্যমী এ যুবককে। বাড়ির পাশের প্রায় ১০ একর জমিতে গড়ে ওঠা সমন্বিত খামার থেকে প্রতি মাসে আয় করেন দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা। পাঁচ বছর খামারে কাজ করে জাকারিয়া বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন কয়েকগুণ। সম্প্রতি তার খামারে গিয়ে দেখা যায় সমন্বিত খামারায়নের এ চিত্র।

জাকারিয়া হাসান জানান, ১৯৮৬ সালে তার বাবা আমিরুল ইসলাম মাত্র দু’শ’ ব্রয়লার মুরগী নিয়ে খামার শুরু করেন। সময়ের ব্যবধানে ১০ একর জমির উপর খামারের বর্তমান বিনিয়োগ প্রায় ২ কোটি টাকা।

খামারে মোট ৭ হাজার মুরগি রাখার ব্যবস্থা রয়েছে জানিয়ে এ যুবক বলেন, বর্তমানে চার হাজার লেয়ার মুরগি রয়েছে। প্রতিদিন ডিম আসে ৩৮০০টির মতো। শুধু ডিম বিক্রি করেই দিনে আয় ১৯ হাজার টাকা, যা মাস শেষে গিয়ে ঠেকে প্রায় ৬ লাখ টাকায়। সব খরচ বাদ দিলে ডিম বিক্রি থেকেই মাসে আয় হয় ২ লাখ টাকার মতো।

এতো গেলো লেয়ার মুরগি লালন-পালন করে আয়ের হিসেব। মুরগির শেডগুলোর পাশের জায়গায় পুকুরে তেলাপিয়া, রুই, কাতল, মৃগেল, শিং মাছ চাষ করে প্রতি বছর জাকারিয়ার আয় হয় তিন লাখ টাকার উপরে।

জাকারিয়া জানান, মুরগি, মাছের পাশাপাশি রয়েছে গবাদি পশু। দু’টি অস্ট্রেলিয়ান হলেস্টিন জাতের গরু থেকে ২০ লিটারের মতো দুধ পাওয়া যায়। প্রতিদিন ১ হাজার টাকা করে প্রতি মাসে এ খাত থেকে আসে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। আর এককালীন প্রতিটি গরু বিক্রি করা যাবে দুই লাখ টাকার উপরে।

জাকারিয়া হাসানের খামারে পাওয়া যায় একটি আদর্শ খামারের চিত্র। তার খামারে মুরগি ও গবাদি পশুর বিষ্টা থেকে উৎপাদিত হচ্ছে বায়োগ্যাস। এ গ্যাস দিয়ে চলে ৬টি চুলা। প্রতি মাসে এ খাত থেকে আসে আরো ৯ হাজার টাকা। এছাড়া খামারের খালি যে জায়গায় আবাদ করা হয়েছে বিভিন্ন জাতের শাক-সবজি, এসব সবজি চাষ করেও বার্তি আয় করছেন তারা।

জাকারিয়া হাসান জানান, যদি সমন্বিতভাবে সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে খামার পরিচালনা করা যায়, তাহলে অনেক কিছুই করা যায়। আমাদের এলাকার যুবকরা পড়াশোনা শেষ করে চাকরির পেছনে দৌড়ান, অথবা লাখ লাখ টাকা খরচ করে বিদেশে পাড়ি জমান। এসব না করে যদি খামারের দিকে আগ্রহী হওয়া যায় তাহলে সাবলম্বী হওয়া সম্ভব।

নতুন খামারিদের ব্যাপারে স্বাবলম্বী এ যুবক বলেন, খামার করতে হলে বুঝতে হবে, শিখতে হবে। কারণ এখানে মুরগি, গবাদি পশুর খাবারের বিষয়গুলো অভিজ্ঞতা ছাড়া সম্ভব নয়।

খাতটি সম্ভাবনার জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের স্থানীয় সরকার, উপজেলা ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা না থাকায় যুবকরা এগিয়ে আসতে পারছেন না। এছাড়া পাওয়া যায়না কোনো ধরনের ঋণ সুবিধা। এসব বিষয়ে সহযোগিতা করা হলে দেশের যুবকরা আর বেকার রইবেনা, খামার করেই হবে স্বাবলম্বী।

সুত্র: বাংলানিউজ২৪ডটকম

Comments (No)

Leave a Reply

এই সাইটের কোন লেখা কপি করা সম্পুর্ন নিষেধ