খরগোশে সাতগুণ লাভ

শখের বসে খরগোশ পালন করে শেরপুরের নকলা উপজেলার বেকার যুবকরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। উপজেলার ভূরদী গ্রামের মনির, ডাকাতিয়া কান্দার মোশারফ, ইশিবপুরের আদেল ও হুমায়ুন কবির বর্ষা এবং কাশিগঞ্জের সুরুজ আলীর মতো অনেকেই খরগোশ পালন করে সংসারে সচ্ছলতা এনেছেন। বাড়িতে খরগোশ পালন করে এসব বেকার যুবক শুধু সফলই হননি, অন্যদেরও পথ দেখাচ্ছেন। ফলে দিন দিন খরগোশ পালনের আগ্রহ বেড়েছে স্থানীয় বেকার যুবকদের মাঝে। খরগোশ পালনে খরচের তুলনায় আট দিক দিয়ে গড়ে লাভ হয় প্রায় সাতগুণ।

স্থানীয়রা জানান, খরগোশের মাংস সুস্বাদু, পুষ্টিগুণে ভরা। এ প্রাণীটি পালনে আলাদা আবাসস্থল নির্মাণ করতে হয় না, শ্রমও কম দিতে হয়। খরগোশ সব ধরনের খাবার খায় তাই আলাদাভাবে খাবার কিনতে হয় না। রোগব্যাধি সাধারণত কম হওয়ায় খরগোশ পালনে ওষুধ বাবদ ব্যয় নেই। সবদিক দিয়ে খরগোশ পালনে খরচের তুলনায় গড়ে লাভ হয় প্রায় সাত গুণ। তাছাড়া এ প্রাণীটি আমিষের ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

খরগোশ পালনকারী মনিরের তথ্যমতে এক জোড়া খরগোশ একসঙ্গে চার থেকে পাঁচটি বাচ্চা দেয়। বছরে চার বারে এক জোড়া খরগোশ প্রায় ১২টি বাচ্চা দেয়। এক জোড়া বাচ্চার দাম ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। ফলে ১০ জোড়া খরগোশ হতে বছরে আয় হয় ৩২ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা। আর প্রাপ্তবয়স্ক এক জোড়া খরগোশের দাম পড়ে ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা। আরেক খরগোশ পালনকারী সুরুজ আলী বলেন, সৌদি আরব থেকে এসে ২০১৩ সালে শখের বসে নিজ বাসভবনে এক জোড়া খরগোশ পালন শুরু করেন। লাভজনক হওয়ায় এখন তিনি বাণিজ্যিকভাবে পালন করতে শুরু করেছেন। বিক্রির পাশাপাশি তিনি নিয়মিত খরগোশের মাংস খেয়ে আসছেন।

সরেজমিন দেখা যায়, সুরুজ আলীর খামারে এক ডজনের বেশি খরগোশের খাঁচা রয়েছে। প্রতিটি খাঁচায় এক জোড়া করে খরগোশ রেখেছেন। বাচ্চা দিলে সেগুলো স্থানীয় বাজারসহ পাইকারদের কাছে বিক্রি করেন। তার সফলতায় অনুপ্রাণিত হয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেকার যুবকরা খরগোশ পালন শুরু করেছেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ সার্জন ডা. আবদুর রহিম মিয়া জানান, খরগোশের রোগবালাই কম হয়। আর ঘাস ও গাছের পাতা বেশি খায় বলে খরচ অনেক কম হয়। পক্ষান্তরে লাভ হয় বেশি। এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোঃ শহিদুল আলম বলেন, কেউ চাইলে অল্প পুঁজিতে খরগোশের খামার গড়ে তুলতে পারেন। এজন্য আমরা প্রয়োজনীয় সব ধরনের পরামর্শ ও সেবা দিয়ে থাকি।

Comments (No)

Leave a Reply